বিধানসভার বিরোধী দলনেতা পদকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত এবার আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছল। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)।
সোমবার তৃণমূলের (TMC) পক্ষ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই মামলা দায়ের করেন। বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের এজলাসে মামলাটি জমা পড়েছে। আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। তার আগেই মামলার শুনানির আবেদন জানানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, আগামী ১১ জুন এই মামলার শুনানি হতে পারে (TMC)।
বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে মতভেদ এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার খবর সামনে আসে। নির্বাচনে ৮০টি আসন জিতে প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পায় তৃণমূল। এরপর দল শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানানো হয়।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের পরই বিতর্ক শুরু হয়। বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে কয়েকজন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করার অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং তদন্ত শুরু করে সিআইডি (TMC)।
এর মধ্যেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার নেতৃত্বে একদল বিক্ষুব্ধ বিধায়ক আলাদা অবস্থান নেয়। পরে ৬০ জন বিধায়ক মিলে ‘নব তৃণমূল ব্লক’ গঠনের ঘোষণা করেন। তাঁরা বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে চিঠি দিয়ে জানান, বিরোধী দলনেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেছে নিয়েছেন।
এরপর স্পিকার ঋতব্রতকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতি দেন। সেই সিদ্ধান্তকেই এবার আদালতে চ্যালেঞ্জ করেছে তৃণমূল।
দলের দাবি, বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধান এবং বিধানসভার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি। তাই স্পিকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে তারা।
আগামী ১৮ জুন নতুন সরকারের প্রথম বিধানসভা অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। তার আগে এই মামলার নিষ্পত্তি চায় তৃণমূল। কারণ, দল চাইছে না যে অধিবেশন শুরুর সময় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতার মর্যাদা পান।
এখন নজর আগামী ১১ জুনের শুনানির দিকে। হাইকোর্ট এই বিষয়ে কী নির্দেশ দেয়, তার উপরই অনেকটাই নির্ভর করছে বিধানসভার বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ সমীকরণ।













