সোনারপুরে বিক্ষোভ এবং হামলার মুখে পড়ার পর শনিবারের দিনটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) রাজনৈতিক জীবনে অন্যতম আলোচিত দিন হয়ে উঠেছে। নিহত এক দলীয় কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়েন তিনি। ধাক্কাধাক্কি, ডিম ছোড়া এবং বিশৃঙ্খলার মধ্যে তাঁকে হেলমেট পরতে হয়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সহায়তায় এলাকা ছেড়ে কলকাতায় ফেরেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক (Abhishek Banerjee)।
কলকাতায় ফিরে প্রথমে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অন্য একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। অভিষেক (Abhishek Banerjee) হাসপাতালে পৌঁছেছেন খবর পাওয়ার পরেই সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন অভিষেকের মা লতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি তৃণমূলের একাধিক প্রবীণ নেতাকেও হাসপাতালে দেখা যায়।
হাসপাতালে উপস্থিত ছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, ফিরহাদ হাকিম এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়। রাজনৈতিক মহলের একাংশের নজর কেড়েছে শোভনের উপস্থিতি। তৃণমূলের শুরুর দিনের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত শোভন চট্টোপাধ্যায়কে অভিষেকের পাশে দেখা যায়। হাসপাতালে যাওয়ার সময়ও তিনি অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
ঘটনার পর সমাজমাধ্যমে প্রথম প্রতিক্রিয়া জানান ডেরেক ও’ব্রায়েন। তিনি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং অভিষেকের উপর হামলার অভিযোগে সরব হন। অন্যদিকে কুণাল ঘোষও বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে উপস্থিত না থাকলেও ঘটনার কড়া নিন্দা করেছেন। সাংসদ মালা রায়ও হাসপাতালে গিয়ে অভিষেকের সঙ্গে দেখা করেন (Abhishek Banerjee)।
তবে রাজনৈতিক মহলে অন্য একটি বিষয়ও আলোচনায় উঠে এসেছে। তৃণমূলের নতুন প্রজন্মের কয়েকজন পরিচিত মুখকে এ দিন প্রকাশ্যে তেমন দেখা যায়নি। যদিও দলীয় সূত্রের বক্তব্য, কে কোথায় ছিলেন বা পরে কী ভূমিকা নেবেন, তা নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
সোনারপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। হামলার ঘটনা, চিকিৎসা নিয়ে বিতর্ক এবং নেতাদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি— সব মিলিয়ে দিনভর চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।











