নিট প্রশ্নফাঁস মামলায় (NEET Paper Leak) আরও বড় সাফল্য পেল সিবিআই। রসায়নের অধ্যাপকের পর এবার গ্রেপ্তার হলেন বায়োলজির এক লেকচারার। অভিযুক্ত অধ্যাপিকার নাম মনীষা গুরুনাথ মান্ধারে। তিনি এনটিএর পেপার সেটিং কমিটির সদস্যা ছিলেন বলে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা।
সিবিআই সূত্রে খবর, মনীষার কাছে উদ্ভিদবিদ্যা এবং প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্রের অ্যাক্সেস ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, নিট প্রশ্নফাঁস (NEET Paper Leak) চক্রে ভিতর থেকেই সাহায্য করা হচ্ছিল। অর্থাৎ, প্রশ্নপত্র তৈরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই এই চক্রের অংশ ছিলেন।
শনিবার সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, দীর্ঘ তদন্তের পর মনীষাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিট পরীক্ষার প্রশ্ন তৈরির কাজে বিশেষজ্ঞ হিসেবে যুক্ত ছিলেন (NEET Paper Leak)।
তদন্তে জানা গিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে পুণেতে নিজের বাড়িতে কোচিং ক্লাস শুরু করেছিলেন মনীষা। সেখানে পরীক্ষার্থীদের জোগাড় করতে সাহায্য করেছিলেন মনীষা ওয়াঘমার নামে এক মহিলা। অভিযোগ, সেই কোচিং থেকেই উদ্ভিদবিদ্যা এবং প্রাণীবিদ্যার প্রশ্নপত্র ফাঁস করা হয়েছিল (NEET Paper Leak)।
এই ঘটনায় আগেই মনীষা ওয়াঘমারকে গ্রেপ্তার করেছিল সিবিআই। তিনি একটি বিউটি পার্লারের মালিক। তদন্তকারীদের দাবি, পুরো চক্রের সঙ্গে তিনি ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।
এর আগে পিভি কুলকর্নি নামে পুণের এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপককেও গ্রেপ্তার করা হয়। তিনিও বহু বছর ধরে নিটের প্রশ্নপত্র প্রস্তুতকারী কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেকচারার হিসেবে কাজ করছিলেন।
সিবিআইয়ের অভিযোগ, এপ্রিল মাসের শেষ সপ্তাহে নিজের বাড়িতে কোচিং ক্লাসের আয়োজন করেছিলেন কুলকর্নি। সেখান থেকেও প্রশ্ন ফাঁস করা হয়েছিল বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।
উল্লেখ্য, গত ৩ মে নিট ইউজি পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি। প্রায় ২৩ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত এক মাস আগে কিছু পড়ুয়ার হাতে একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র পৌঁছে গিয়েছিল।
তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সম্ভাব্য প্রশ্নপত্রে থাকা ৪১০টি প্রশ্নের মধ্যে ১২০টি রসায়নের প্রশ্ন মূল পরীক্ষার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। শুধু প্রশ্ন নয়, উত্তরগুলির অপশনও একই ছিল।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। ভবিষ্যতে এমন দুর্নীতি ঠেকাতে অনলাইন পরীক্ষার পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্র সরকার।












