সুপ্রিম কোর্টে শুনানির সময় বেকার যুবক ও সমাজকর্মীদের নিয়ে মন্তব্য করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিলেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (CJI)। শুক্রবার এক মামলার শুনানিতে তিনি বলেন, চাকরি না পেয়ে অনেক যুবক সমাজমাধ্যম কর্মী, তথ্য জানার অধিকার কর্মী বা অন্য ধরনের কর্মী হয়ে সিস্টেমকে আক্রমণ করতে শুরু করেন।
এক আইনজীবীর সিনিয়র আইনজীবীর মর্যাদা চেয়ে করা মামলার শুনানিতে এই মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি (CJI)। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর সঙ্গে যৌথ বেঞ্চে বসে তিনি আবেদনকারীর আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ, সিনিয়র আইনজীবীর স্বীকৃতি আদালত দেয়, তা জোর করে আদায় করার বিষয় নয়।
শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি (CJI) বলেন, “অনেক যুবক তেলাপোকার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে। কোনও কাজ নেই, পেশায় জায়গা নেই। কেউ সংবাদমাধ্যমে যায়, কেউ সমাজমাধ্যমে, কেউ তথ্য জানার অধিকার কর্মী হয়ে যায়। তারপর সবাইকে আক্রমণ করতে শুরু করে।” এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
আদালত (CJI) আরও জানায়, সমাজে এমন কিছু ‘পরজীবী’ রয়েছেন, যারা সবসময় সিস্টেমকে আক্রমণ করেন। আবেদনকারীও কি তাঁদের সঙ্গে যোগ দিতে চান, সেই প্রশ্নও তোলা হয়। প্রধান বিচারপতি আবেদনকারী আইনজীবীকে বলেন, “সিনিয়র আইনজীবীর মর্যাদা কি শুধুই সাজিয়ে রাখার জন্য?”
শুনানির সময় আবেদনকারীর সমাজমাধ্যমের ভাষা নিয়েও আপত্তি তোলে আদালত। প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, পেশাগত আচরণ ঠিক না থাকলে দিল্লি হাই কোর্ট তাঁকে সিনিয়র আইনজীবীর মর্যাদা দিলেও সুপ্রিম কোর্ট তা বাতিল করে দিতে পারে।
এদিন আইনজীবীদের ডিগ্রি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, অনেক সময় মনে হয় কালো কোট পরে থাকা বহু মানুষের ডিগ্রি তদন্ত করা উচিত। এমনকী কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে সেই ডিগ্রি যাচাই করানোর কথাও উঠে আসে শুনানিতে।
বার কাউন্সিলকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করে আদালত। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ভোটের রাজনীতির কারণে বার কাউন্সিল অনেক বিষয়ে ব্যবস্থা নেয় না।
শেষ পর্যন্ত আদালতের কড়া মন্তব্যের পর আবেদনকারী আইনজীবী ক্ষমা চেয়ে মামলা প্রত্যাহারের অনুমতি চান। সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন মঞ্জুর করে।









