পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজভবন। তৃতীয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের মেয়াদ শেষ হতেই নিয়ম মেনে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করলেন রাজ্যপাল (Bengal Governor) আর এন রবি। ৭ মে পর্যন্ত ছিল সরকারের সাংবিধানিক মেয়াদ। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিধানসভার আর কোনও কার্যকারিতা থাকে না। ফলে নতুন সরকার গঠনের আগে আনুষ্ঠানিকভাবে বিধানসভা ভেঙে দেওয়া হল (Bengal Governor)।
ভোটে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না বলে জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ ছিল, ভোটে কারচুপি করে বিজেপি জয় পেয়েছে। ভবানীপুর কেন্দ্রে পরাজয়ের পর গণনাকেন্দ্র থেকেই তিনি অভিযোগ তোলেন, বিজেপি এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে ভোট লুট করেছে। পরে সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, “আমরা হারিনি, হারানো হয়েছে। আমি রাজভবনে গিয়ে ইস্তফা দেব না। রাষ্ট্রপতি শাসন হলে হোক।”
তবে সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে মুখ্যমন্ত্রীর পদও কার্যকর থাকে না। সেই নিয়ম মেনেই রাজ্যপালের (Bengal Governor) নির্দেশে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করেন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের অধ্যায়ের সমাপ্তি হল।
জানা গিয়েছে, আগামী ৯ মে নতুন বিজেপি সরকার শপথ নেবে। তার আগে দু’দিনের জন্য রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হয়েছে। নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকবে রাজ্যপালের হাতে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়াই প্রচলিত রীতি। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই পথে হাঁটেননি। যদিও শেষ পর্যন্ত সাংবিধানিক নিয়মেই সরকার ভেঙে গেল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।











