উত্তরপ্রদেশের বিজনৌরে ২৮ বছর বয়সি এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (UP Woman)। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন হুমকি ও ব্ল্যাকমেলিংয়ের শিকার হয়েই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন। এই ঘটনার সঙ্গে আবারও সামনে এসেছে ভয়ঙ্কর “ডিজিটাল অ্যারেস্ট” প্রতারণার চক্র।
মৃতার নাম মনিকা (UP Woman)। তিনি তাঁর স্বামী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে থাকতেন। ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ঘরের ভিতর ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর দেহ পাওয়া যায়। সেই সময় তাঁর দুই কন্যা পাশের ঘরে ঘুমাচ্ছিল। পরদিন সকালে শিশুরাই প্রথম এই ঘটনা দেখতে পায়।
পরিবার প্রথমে সামাজিক লজ্জার ভয়ে পুলিশকে না জানিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করে (UP Woman)। পরে মনিকার লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায়, যেখানে তিনি তাঁর যন্ত্রণার কথা লিখে গিয়েছেন।
নোটে তিনি (UP Woman) ছোট মেয়েকে উদ্দেশ করে লেখেন, তিনি দুঃখিত এবং তাকে ক্ষমা করতে বলেন। স্বামীকে উদ্দেশ করে তিনি লেখেন, একজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছিল এবং মানসিকভাবে চাপ দিচ্ছিল, যার ফলেই তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবার পরে তাঁর মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে বহু অজানা নম্বর থেকে কল, মেসেজ এবং ভয়েস রেকর্ডিং খুঁজে পায়। সেখানে দেখা যায়, কিছু ব্যক্তি নিজেদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসার পরিচয় দিয়ে তাঁকে ভয় দেখাচ্ছিল এবং গুরুতর অপরাধে ফাঁসানোর হুমকি দিচ্ছিল (UP Woman)।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর বিষয় হলো, মনিকার মৃত্যুর পরও এই প্রতারণা থামেনি। তাঁর ফোনে শেষকৃত্যের সময়েও কল আসছিল বলে জানা গিয়েছে। এক আত্মীয় ভিডিও কলে একজন ভুয়া পুলিশ অফিসারকে দেখতে পান, যিনি আবারও হুমকি দেন (UP Woman)।
পরিবার জানায়, যখন তারা ওই ব্যক্তিকে জানায় যে মনিকা মারা গিয়েছেন, তখনও সেই ব্যক্তি স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি দিতে থাকে।
এরপরই পরিবার পুলিশে অভিযোগ জানায়। পুলিশ মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
তদন্তকারীদের মতে, এটি “ডিজিটাল অ্যারেস্ট” নামের এক ধরনের অনলাইন প্রতারণা, যেখানে ভুয়া পুলিশ পরিচয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা হয় এবং সামাজিকভাবে অপমান করার হুমকি দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় ফের সামনে এসেছে অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহ দিক, যেখানে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে।








