হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) নিয়ে ইরানের ভিতরে নতুন করে চরম বিভ্রান্তি ও ক্ষমতার টানাপোড়েন প্রকাশ্যে এসেছে। শনিবার ওই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালানোর ঘটনা ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, প্রণালী খোলা না বন্ধ—এই নিয়েই ইরানের ভিতরে দুই ধরনের নির্দেশে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যার ফলেই এই হামলা ঘটতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে (Strait of Hormuz)।
ইরানের এক শীর্ষ সামরিক আধিকারিক দাবি করেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারবে, তবে তার জন্য ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা সেনার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে (Strait of Hormuz)। অন্যদিকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, যুদ্ধবিরতির পর প্রণালী খোলা রয়েছে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
এই দুই বিপরীত বার্তার ফলে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহণে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর মধ্যেই ভারতীয় জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপরই ভারত তেহরানে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানায় এবং ঘটনার ব্যাখ্যা চায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভিতরে এখন ক্ষমতার দ্বন্দ্ব স্পষ্ট। একদিকে দেশের বেসামরিক সরকার আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইছে, অন্যদিকে শক্তিশালী সেনা সংগঠন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাইছে (Strait of Hormuz)।
ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমও দাবি করেছে যে, বিদেশমন্ত্রীর বক্তব্য সম্পূর্ণ সঠিকভাবে পরিস্থিতি তুলে ধরেনি, ফলে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, প্রণালী দিয়ে চলাচলের জন্য সেনাবাহিনীর অনুমোদন বাধ্যতামূলক।
এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, আসলে হরমুজ প্রণালী এখন কার নিয়ন্ত্রণে—ইরানের সরকার নাকি সেনাবাহিনী? কারণ এই জলপথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়, যার উপর ভারত-সহ বহু দেশের জ্বালানি নির্ভরশীল।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি শুধু ভারত বা ইরানের নয়, বরং গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় সংকেত।










