ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলা সংঘাতের মাঝেই ইসলামাবাদে (Pakistan) শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। শনিবার এই আলোচনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের সংসদের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। এই বৈঠক এমন সময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি চলছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের অনুরোধেই এই আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তান এই বৈঠকের আয়োজক হিসেবে সামনে এসেছে, কারণ তারা চায় দ্রুত শান্তি স্থাপন হোক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈঠক সফল না হলে পাকিস্তানের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে উঠতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পাকিস্তান সরাসরি ইরানের পাশেই রয়েছে। আবার সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের সামরিক চুক্তি রয়েছে, যা ইরানের বিরোধী শক্তি হিসেবে বিবেচিত।
যদি আলোচনা ভেঙে যায়, তাহলে পাকিস্তানকে একসঙ্গে একাধিক দিক থেকে চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। আফগানিস্তান, ইরান এবং ভারতের সীমান্তে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে (Pakistan)।
পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ অবস্থাও খুব স্থিতিশীল নয়। বালোচিস্তানে বাড়ছে অশান্তি, আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কও উত্তেজনাপূর্ণ। এই অবস্থায় নতুন করে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়ানো পাকিস্তানের পক্ষে বড় ঝুঁকি।
এছাড়াও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব দুর্বল। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও গ্যাসের উপর নির্ভরশীল পাকিস্তান। হরমুজ প্রণালীতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম বেড়েছে, যার প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতিতে। জ্বালানি বাঁচাতে স্কুল বন্ধ রাখা, অফিসে বাড়ি থেকে কাজের মতো সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে।
পাকিস্তানের অনেক মানুষ উপসাগরীয় দেশগুলোতে কাজ করেন। যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে তাঁদের উপরেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে সব দিক থেকেই চাপ বাড়ছে ইসলামাবাদের উপর।
এই অবস্থায় ইসলামাবাদে হওয়া এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যদি এই আলোচনা সফল না হয়, তাহলে পাকিস্তান এমন এক সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে, যার জন্য তারা প্রস্তুত নয়।











