আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ শান্তি বৈঠককে কেন্দ্র করে কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ (Pakistan)। উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের বিভিন্ন অংশে কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার থেকেই ‘রেড জোন’ এলাকায় লকডাউন চলছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করেছে প্রশাসন। শহরের প্রশাসনিক কেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে কোনওরকম নিরাপত্তা ঝুঁকি না থাকে (Pakistan)।
এই বৈঠকে যোগ দিতে আমেরিকার শীর্ষ প্রতিনিধি দল এবং ইরানের উচ্চপদস্থ নেতারা ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন (Pakistan)। নিরাপত্তার স্বার্থে শহরের বিলাসবহুল হোটেল খালি করে দেওয়া হয়েছে। চারদিকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শুধু ইসলামাবাদ নয়, পাশের শহর রাওয়ালপিন্ডিতেও বাজার বন্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং বৈঠক নির্বিঘ্ন করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন পাকিস্তানের (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তাঁর কথায়, এই আলোচনা সফল না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তবে বৈঠকের মাঝেই উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে আমেরিকার কড়া বার্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইরানের হাতে কোনও শক্তিশালী অবস্থান নেই। তিনি দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক জলপথকে ব্যবহার করে চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে তেহরান।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন এই বৈঠকের মূল বিষয় হয়ে উঠেছে। এই জলপথ বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমেরিকার দাবি, কোনও শর্ত ছাড়াই এই পথ খুলে দিতে হবে। অন্যদিকে ইরান চাইছে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং নিজেদের সম্পদ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা (Pakistan)।
এই অবস্থায় দুই দেশের মধ্যে কড়া বক্তব্যের লড়াই চললেও আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। দুই পক্ষই আলাদা আলাদা জায়গায় বসে পরোক্ষভাবে আলোচনা চালাচ্ছে। দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর এখন একটি সমাধানের পথ খুঁজছে দুই দেশই। তবে এই উত্তেজনার আবহে শেষ পর্যন্ত কোনও চুক্তি হবে কি না, তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।












