ভাইরাল একটি ভিডিও ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। তিনি বলেন, টাকার জন্য ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে যাঁরা খেলছেন, তাঁদের সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা উচিত।
সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে, যেখানে হুমায়ুন কবীরকে কিছু বিস্ফোরক মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। ভিডিওতে তিনি নাকি বলেছেন, যে কোনও মূল্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারাতে চান। সেই জন্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। এমনকী প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে (Firhad Hakim)।
ভিডিওতে আরও শোনা যাচ্ছে, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রদেশ ও অসমের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই কথোপকথনে বলা হয়েছে, মুসলিম ভোটে প্রভাব ফেলতে পারলে নির্বাচনের ফল ঘুরে যেতে পারে।
এছাড়াও অভিযোগ, বিভিন্ন কেন্দ্রে বিপুল টাকা খরচ করার পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে ওই ভিডিওতে। সেখানে বলা হয়েছে, বহু আসনে প্রভাব ফেলতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন।
এই ভিডিও সামনে আসতেই তৃণমূলের নেতারা একযোগে প্রতিবাদে সরব হয়েছেন। কুণাল ঘোষ দাবি করেছেন, এই ঘটনায় কারা যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা উচিত। ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) কড়া ভাষায় বলেন, ধর্ম নিয়ে এভাবে খেলা অন্যায় এবং অপরাধ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মানুষ কি এতটাই সরল যে টাকার বিনিময়ে তাঁদের আবেগ ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে হুমায়ুন কবীর সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওটি ভুয়ো এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর ফোনে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং কথোপকথন রেকর্ড করা হচ্ছে। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, যদি প্রমাণ করা যায় ভিডিওটি সত্যি, তাহলে তিনি দায় স্বীকার করবেন। না হলে তিনি বড় অঙ্কের মানহানির মামলা করবেন।
সব মিলিয়ে ভোটের আগে এই ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।













