সৌদি আরব পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য (Middle East Crisis)। ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে রিয়াদ চাইছে, ইসলামাবাদ যেন পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সক্রিয় ভূমিকা নেয় (Middle East Crisis)। সৌদি আরবের লক্ষ্য পাকিস্তানের বড় ও অভিজ্ঞ সেনাবাহিনী ব্যবহার করা, বিশেষত ইয়েমেনে স্থল অভিযান পরিচালনায় যে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে। এই চুক্তি সৌদি আরবকে পাকিস্তানের পারমাণবিক রক্ষা ছত্রর আওতায় এনে দেয়, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর নির্ভরতা কমায় এবং ইরানের বিরুদ্ধে অবস্থান শক্তিশালী করে। এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি সেনারা ইরানের পূর্ব সীমান্তে দ্বিতীয় ফ্রন্ট খুলতে পারে বা হরমুজ সঙ্কীর্ণসাগর নিরাপদ করতে সাহায্য করতে পারে। এতে সৌদি বাহিনী স্থল যুদ্ধের সময় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে পারবে।
পাকিস্তানের জন্য, ইরানের সঙ্গে যেকোনো সংঘাতের বড় ঝুঁকি রয়েছে। শিয়া-প্রধান ইরানের বিরুদ্ধে হামলা দেশেই ব্যাপক ধর্মীয় বিশৃঙ্খলার সূত্রপাত করতে পারে। পাকিস্তানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিয়া জনসংখ্যা রয়েছে, আনুমানিক ৩০–৫০ মিলিয়ন (Middle East Crisis)।
যুদ্ধ পাকিস্তানের নাজুক অর্থনীতি আরও দুর্বল করতে পারে। তেলের দাম বাড়া, গালফ থেকে রেমিট্যান্স কমা এবং ইতিমধ্যেই চাপের মধ্যে থাকা অর্থনৈতিক ও জ্বালানি পরিস্থিতি সংকট গভীর করবে (Middle East Crisis)।
সার্বভৌম নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও সমস্যা আছে। পাকিস্তান ইরানের সঙ্গে ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত ভাগাভাগি করে, যা সরাসরি প্রতিশোধের ঝুঁকি বাড়ায়। একদিকে ভারত, আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী সমস্যা এবং বালোচ বিদ্রোহ মোকাবিলা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে নতুন সংঘাত তার সেনাবাহিনীকে একাধিক ফ্রন্টে ছড়িয়ে দেবে।
ভারতের গোয়েন্দা সূত্র জানাচ্ছে, সীমিত পাকিস্তানি অংশগ্রহণ—যেমন বিমান প্রতিরক্ষা বা সৌদি আরব ও হরমুজ সঙ্কীর্ণসাগরে স্থাপন—ও পশ্চিম ফ্রন্ট খোলার সমতুল্য হবে। পাকিস্তানে বড় শিয়া জনসংখ্যা থাকা কারণে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ ঘরে বিশৃঙ্খলা ও উগ্রপন্থা বাড়াতে পারে।
সূত্রের মতে, পাকিস্তান সম্ভবত পূর্ণাঙ্গ আক্রমণে অংশ নেবে না বা ইরানে স্থল সেনা পাঠাবে না। ইসলামাবাদ থেকে আসা সাম্প্রতিক বিবৃতিগুলো মূলত সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা প্রকৃত যুদ্ধের ইঙ্গিত নয়। পাকিস্তান এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইস্রায়েল-ইরান সংঘাতের ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রেখেছে।
এদিকে, ২০ মার্চ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মজতবা খামেনি পাকিস্তানকে আফগানিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের আহ্বান জানান। তিনি পাকিস্তানকে “প্রিয় দেশ” উল্লেখ করে উভয় দেশের মধ্যে ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়াও, ১৫ মার্চ পাকিস্তানি তেল ট্যাঙ্কার এমটি করাচি হরমুজ সঙ্কীর্ণসাগর দিয়ে নিরাপদে প্রবাহিত হয়েছে, যদিও এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বন্ধ ছিল।












