পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনার আবহের মধ্যেই ভারতের কোচি বন্দরে আশ্রয় নেওয়া ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজের নাবিকদের দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে (Middle East Crisis)। জানা গেছে, ওই জাহাজে থাকা ১৮৩ জন নাবিককে শিগগিরই ইরানে পাঠানো হবে। এতে তাঁদের ভারতে থাকা শেষ হতে চলেছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজটি গত চার মার্চ কোচি বন্দরে ভিড়েছিল। তার আগে ফেব্রুয়ারি মাসে বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত আন্তর্জাতিক নৌ মহড়া এবং নৌবাহিনীর এক বড় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিল ইরানের এই জাহাজ (Middle East Crisis)।
ভারত মহাসাগরে টহল দেওয়ার সময় জাহাজটিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা দেখা দেয় বলে জানা যায়। সেই কারণেই ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে ইরান ভারতের কাছে তিনটি যুদ্ধজাহাজকে ভারতীয় বন্দরে ঢোকার অনুমতি চায়। ঠিক সেই সময়ই ইরানের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলা শুরু হয়েছিল (Middle East Crisis)।
ভারত সরকার এক মার্চ সেই অনুরোধে অনুমতি দেয়। তিনটি জাহাজের মধ্যে একটি কোচি বন্দরে পৌঁছতে সক্ষম হয়। সেই জাহাজেই ছিলেন ১৮৩ জন নাবিক। তাঁদের কোচিতে ভারতীয় নৌবাহিনীর একটি কেন্দ্রে রাখা হয়েছিল।
অন্য একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কার বন্দরে আশ্রয় নেয়। সেখানেও নাবিকদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়। আর তৃতীয় জাহাজটি শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক সমুদ্রে মার্কিন সাবমেরিনের হামলায় ডুবে যায় বলে জানা গেছে। সেই ঘটনায় বহু হতাহতের খবরও সামনে এসেছে।
ভারতের বিদেশমন্ত্রী সংসদে জানিয়েছেন, ইরানের ওই যুদ্ধজাহাজকে কোচি বন্দরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল সম্পূর্ণ মানবিক কারণে। তাঁর কথায়, বিপদের সময়ে সাহায্য করা উচিত বলেই ভারত এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এই সাহায্যের জন্য ইরানের বিদেশমন্ত্রী ভারতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বলেও তিনি জানান।
সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারত ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত করার উপায় নিয়ে দুই দেশের বিদেশমন্ত্রীর মধ্যে একাধিক বার আলোচনা হয়েছে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীও ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলেছেন। সেই আলোচনায় তিনি পশ্চিম এশিয়ায় দ্রুত পরিস্থিতি শান্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর ক্ষতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ধরনের পরিস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। পাশাপাশি ওই অঞ্চলে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহের পথ সুরক্ষিত রাখা নিয়েও ভারতের উদ্বেগের কথা তিনি তুলে ধরেছেন।













