রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিন রাস্তায় নামলেন তৃণমূলের মহিলা কর্মীরা (TMC Protest)। কালো শাড়ি ও কালো পোশাক পরে কলকাতার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে জমায়েত করেন তাঁরা। সেখান থেকে শুরু হয় প্রতিবাদ মিছিল। থালা বাসন, হাঁড়ি কড়াই ও খুন্তি বাজিয়ে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মহিলারা (TMC Protest)।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা ও চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য সহ তৃণমূলের একাধিক মহিলা নেতা। ধরনা মঞ্চেও কালো শাড়ি পরে প্রতীকী প্রতিবাদ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতেও ছিল একটি প্রতীকী গ্যাস সিলিন্ডার (TMC Protest)।
প্রতি বছরই আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের নানা কর্মসূচি থাকে। তবে এ বছর গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই কর্মসূচি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের জেরে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং তার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও।
রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিও এখন উত্তপ্ত। সামনে নির্বাচন থাকায় গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে রাজনীতির পারদ আরও চড়েছে। এসআইআর ইস্যুতে ইতিমধ্যেই ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকেই তিনি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন।
ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় ষাট টাকা বাড়ানো হয়েছে। তার আগে আরও একবার দাম বাড়ানো হয়েছিল। ফলে সাধারণ মানুষের উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। বড় সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার টাকারও বেশি হয়ে গেছে এবং ছোট সিলিন্ডারের দামও প্রায় হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস বুকিং করতে হলে একুশ দিন অপেক্ষা করতে হবে। এতে সাধারণ মানুষের সমস্যাই বাড়বে। কারও বাড়িতে যদি গ্যাস শেষ হয়ে যায়, তাহলে এতদিন রান্না কীভাবে চলবে সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
এরপরই আন্তর্জাতিক নারী দিবসে প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, হাঁড়ি কড়াই, বাটি ঘটি, হাতা খুন্তি নিয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাতে হবে। মানবতার স্বার্থে মা বোনেদের রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করার আহ্বান জানান তিনি। প্রয়োজনে কালো শাড়ি পরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার কথাও বলেন।







