পশ্চিমবঙ্গ সফরে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অসম্মান করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে (Home Ministry)। শনিবার থেকেই এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। এবার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি নড়েচড়ে বসেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাষ্ট্রপতির সফরের দিন কী কী ঘটেছিল এবং রাজ্য প্রশাসন কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা জানতে চেয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব (Home Ministry) গোবিন্দ মোহন।
সূত্রের খবর, ওই চিঠিতে রাজ্য সরকারের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। এমনকি সেই রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে (Home Ministry)। রবিবার বিকেল পাঁচটার মধ্যেই দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠাতে বলা হয়েছে রাজ্য প্রশাসনকে।
শনিবার আন্তর্জাতিক সাঁওতাল সম্মেলনে যোগ দিতে শিলিগুড়ি মহকুমার গোঁসাইপুরে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অবাক হয়ে প্রশ্ন করেন, এত চেয়ার খালি কেন। তাঁর বক্তব্য, মনে হচ্ছে কেউ যেন সভায় বাধা দিচ্ছে।
পরে তিনি শিলিগুড়ি মহকুমার বিধাননগর এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি দেখেন। সেখানেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তিনি তাঁর ছোট বোনের মতো। তবে হয়তো কোনও কারণে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর উপর রাগ করেছেন, তাই এই সভা ঠিকভাবে হতে পারেনি বলে ইঙ্গিত দেন (Home Ministry)।
রাষ্ট্রপতির এই মন্তব্য সামনে আসার পরই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। কলকাতার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রতি তাঁর পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ পদে তিনি আছেন। তবে ভোটের আগে এই বিষয়টি নিয়ে রাজনীতি করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এই ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে এবং রাষ্ট্রপতির প্রতি এই অসম্মানের জন্য রাজ্যের প্রশাসনই দায়ী।
এরপর থেকেই বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়। দুই দলের একাধিক নেতা একে অপরকে দোষারোপ করতে থাকেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই রবিবার সকালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি পাঠান। সেই চিঠিতে রাজ্য সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং গোটা ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা কী ছিল, তার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি কোনও রাজ্যে এলে তাঁকে স্বাগত জানানোর জন্য রাজ্যের কোনও মন্ত্রী উপস্থিত থাকেন এবং রাজ্যপালও সেখানে থাকেন। তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের পদ খালি রয়েছে। কারণ সম্প্রতি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস পদত্যাগ করেছেন। তাঁর জায়গায় আরএন রবি আগামী বারো মার্চ শপথ নেবেন।
রাজ্যপালের পদ খালি থাকায় সেই পদে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। তবে রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে রাজ্যের কোনও মন্ত্রীও সেখানে ছিলেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও শিলিগুড়ি পৌরনিগমের মেয়র গৌতম দেব সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে এই ঘটনায় কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। ফলে এই বিতর্ক আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।













