মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল থমকে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লেগেছে (Crude Oil)। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের উপরেও। চাল-সহ একাধিক শস্য রপ্তানিতে বড়সড় ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোটি কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে দেশ।
জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ও সংলগ্ন এলাকায় অন্তত ৩৮টি ভারতীয় জাহাজ আটকে রয়েছে (Crude Oil)। সেই জাহাজগুলিতে প্রায় ১১০০ নাবিক কর্মরত। তাঁদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যেই মিসাইল হামলায় তিনজন ভারতীয় নাবিকের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরও এক ভারতীয়।
পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোওয়াল (Crude Oil)। জাহাজ মন্ত্রকের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়েছে। উপস্থিত ছিলেন ডিজি শিপিং-সহ শীর্ষ আধিকারিকরা। পরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরেও বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে দেশের বন্দরগুলিতেও চাপ বাড়ছে। পণ্যবাহী জাহাজের ভিড়ে উপচে পড়ছে বিভিন্ন বন্দর। জাহাজ মন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, প্রায় হাজারের বেশি কনটেনারবাহী জাহাজ দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফলে আমদানি-রফতানি কার্যত ধীরগতিতে চলছে।
ওমান ও ইরানের মাঝের এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে বিশ্বে রপ্তানিকৃত তেল ও গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ভারতের ক্ষেত্রেও এই পথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ (Crude Oil)। দেশ প্রায় ৪০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এবং ৫০ শতাংশের বেশি তরল প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়েই আমদানি করে। তাই এই পথ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে জ্বালানি সরবরাহে বড় সঙ্কট তৈরি হতে পারে।
ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জাহাজ বর্তমানে আটকে রয়েছে (Crude Oil)। এর জেরে ১০ হাজার কোটি টাকারও বেশি পণ্যের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা। শুধু তাই নয়, যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জলসীমায় প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক ও কর্মী আটকে রয়েছেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন কেন্দ্র।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত সরকারের তরফে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তা চালু থাকবে। টোল-ফ্রি নম্বরও প্রকাশ করা হয়েছে। নম্বরগুলি হল ১৮০০১১৮৭৯৭, ৯১-১১-২৩০১২১১৩, ৯১-১১-২৩০১৪১০৪ এবং ৯১-১১-২৩০১৭৯০৫। বাহরাইন, ইরান, ইরাক, ইজরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাসগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশে কত তেল মজুত রয়েছে, তা নজরে রাখতে নয়া দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার বিশেষ পর্যবেক্ষণ কক্ষ চালু করা হয়েছে।
সমুদ্রপথে এই অচলাবস্থা কত দিন চলবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অর্থনীতির উপরও তার গভীর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।













