বাংলায় ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন (SIR)। প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার এখনও বিচারাধীন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই সংশয় বাড়ছে। রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে তরজা (SIR)। যদিও নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দিয়েছে, ধাপে ধাপে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করে ভোটারদের অধিকার সুরক্ষিত করা হবে।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জন বিচারাধীন ভোটারের মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষের নিষ্পত্তি হয়েছে (SIR)। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যে বিশেষ যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছেন জুডিশিয়াল অফিসাররা। মোট ৫৩২ জন অফিসারের যুক্ত থাকার কথা থাকলেও প্রায় ৩০০ জন জেলা জজের উপরেই দায়িত্ব পড়েছে। গত এক সপ্তাহে তাঁরা সাড়ে তিন লক্ষ কেসের নিষ্পত্তি করেছেন।
তবে এই সাড়ে তিন লক্ষের মধ্যে সব নামই চূড়ান্তভাবে বৈধ নয়। সূত্রের দাবি, প্রায় ২৫ শতাংশ এখনও সন্দেহের তালিকায় রয়েছে (SIR)। বাকি ৭৫ শতাংশ আপাতত সবুজ সংকেত পেয়েছেন। যদি এই অনুপাতই গোটা তালিকায় প্রযোজ্য হয়, তা হলে প্রায় ১৫ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এখন বড় প্রশ্ন, বাকি ৫৬ লক্ষের বেশি কেস নিষ্পত্তি হতে কত দিন লাগবে? গত সাত দিনে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার কেস দেখা হয়েছে। এক জন অফিসার দিনে গড়ে ১৬৬ জনের নথি যাচাই করেছেন। এই গতিতে কাজ চললে বাকি কেস শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় ১১৩ দিন, অর্থাৎ তিন মাসেরও বেশি।
কিন্তু নির্বাচন কি এত দিন অপেক্ষা করবে? বিধানসভা ভোট সামনে। যদি মে মাসের মধ্যে ভোট প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, তা হলে আগামী ২০ দিনের মধ্যেই নির্বাচনের ঘোষণা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পুরো তালিকা সংশোধনের জন্য পর্যাপ্ত সময় আদৌ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশা থেকে ১০০ জন করে বিচারক চেয়ে পাঠানো হয়েছে। মোট ২০০ জন অতিরিক্ত জুডিশিয়াল অফিসার এলে কাজে গতি বাড়তে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, ভোটের আগে সব ভোটার কি তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের নিশ্চয়তা পাবেন? নাকি অনিশ্চয়তার মেঘ কাটবে না শেষ পর্যন্ত?













