Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • পরপর কম্পনে বাড়ছে দুশ্চিন্তা, বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা
রাজ্য

পরপর কম্পনে বাড়ছে দুশ্চিন্তা, বড় বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

earthquake kolkata q
Email :23

শুক্রবার দুপুরে আচমকা ভূমিকম্পে (Earthquake) কেঁপে উঠল কলকাতা-সহ রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। সাতাশে ফেব্রুয়ারি প্রায় বায়ান্ন সেকেন্ড ধরে পাঁচ মাত্রার কম্পন অনুভূত হয়। দিনের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ বহুতল ভবন থেকে নেমে রাস্তায় আশ্রয় নেন। প্রাথমিকভাবে কয়েকটি বহুতল দুলতে দেখা গেলেও এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে বারবার ভূমিকম্পে উদ্বেগ বাড়ছে শহরবাসীর মধ্যে (Earthquake)।

এই কম্পনের (Earthquake) উৎসস্থল কলকাতা নয়। উত্তর-পূর্ব ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন সাতক্ষীরা ও খুলনা এলাকায় কম্পনের কেন্দ্র ছিল বলে জানা গেছে। সেই প্রভাবই কলকাতা ও আশপাশের জেলায় অনুভূত হয়েছে। প্রথম ধাক্কা কাটতেই মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে, ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয় বা প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে কি না। এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এবং নিয়ম মেনে শক্তপোক্ত নির্মাণের উপর জোর দিয়েছেন।

অবসরপ্রাপ্ত ভূবিজ্ঞানী অমিতাভ মল্লিক জানান, উত্তরবঙ্গের হিমালয় সংলগ্ন অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ (Earthquake)। সেখানে শক্তিশালী কম্পন হলে তার প্রভাব কলকাতাতেও পড়ে। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুযায়ী শহরটি ভূমিকম্পের ঝুঁকির বাইরে নয়। রিখটার স্কেলে খুব বড় মাত্রার কম্পন না হলেও উত্তরে ভূমিকম্প হলে কলকাতা নড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে। দুই হাজার পনেরো সালে আইআইটি খড়গপুর-এর সমীক্ষায় দেখা যায়, সিসমিক মানচিত্রে কলকাতা তিন ও চার নম্বর অঞ্চলের সীমানায় রয়েছে। ফলে ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

ইনস্টিটিউট অব টাউন প্ল্যানার্স ইন্ডিয়ার প্রাক্তন কাউন্সিল সদস্য দীপঙ্কর সিনহা বলেন, কলকাতার ভূগর্ভস্থ প্লেটগুলির নড়াচড়া অব্যাহত থাকে। সেই নড়াচড়ায় সমস্যা হলেই কম্পন (Earthquake) অনুভূত হয়। তাঁর মতে, ভূমিকম্পপ্রবণ শহর হিসাবে কলকাতা তৃতীয় গ্রেডে পড়ে। এছাড়া শহরের নিচে থাকা ফাটলরেখা মায়ানমার পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ায় সেই লাইনে কম্পন হলে ধাক্কা আরও বেশি অনুভূত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় প্লেট ধীরে ধীরে উত্তর-পূর্বের তিব্বতি প্লেটের দিকে সরে যাচ্ছে এবং দুই প্লেটের সংঘর্ষে কম্পনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ জলস্তর থেকে অতিরিক্ত জল তোলার কারণে ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে। বহুতলের ভিত মজবুত না হলে বড় মাত্রার ভূমিকম্পে ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

ভবানীপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানান, পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ অঞ্চলই কমবেশি কম্পনপ্রবণ এবং কলকাতাকে মাঝারি ঝুঁকির শহর হিসেবে ধরা হয়। এদিনের ভূমিকম্পের মাত্রা মাঝারি হলেও শহরের নিচে হুগলি নদী-র বালি ও কাদার নরম স্তর অনেকটা কম্পন শুষে নেওয়ায় বড় ক্ষতি হয়নি। তবে এর চেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হলে কলকাতা বড় বিপদের মুখে পড়তে পারে বলেই সতর্ক করেছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts