আজ থেকে রাজ্যে নতুন গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হওয়ার কথা। দুষ্কৃতী দমনে এই আইনকে বড় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছে রাজ্য সরকার। তবে আইন কার্যকর হওয়ার দিনেই কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court) এই আইনের বিরুদ্ধে জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি মিলেছে। ফলে নতুন আইন ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
গত ঊনত্রিশ জুন রাজ্য বিধানসভায় গুন্ডাদমন সংক্রান্ত নতুন বিল পাশ হয়। পরে সেটি আইনে পরিণত হয়। রাজ্য সরকারের দাবি, সমাজবিরোধী কার্যকলাপ, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট এবং সংগঠিত অপরাধ দমনে এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে (Calcutta High Court)। নতুন আইনে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে আগের তুলনায় বেশি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে কমিশন বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রকৃত ক্ষতির তুলনায় বেশি অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ধার্য করতে পারবে বলেও উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে এই আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, শুধুমাত্র সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তারের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সংবিধান ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। তিনি অবিলম্বে আইনের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন জানান। সেই আবেদন গ্রহণ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছে। চলতি সপ্তাহেই মামলার শুনানি হতে পারে (Calcutta High Court)।
অন্যদিকে রাজ্য সরকার এই আইনকে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পর সমাজবিরোধীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর দাবি, এই আইনের ফলে রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা আরও শক্তিশালী হবে এবং দুষ্কৃতীদের দৌরাত্ম্য কমবে।
এখন নজর কলকাতা হাই কোর্টের দিকে (Calcutta High Court)। আদালতের পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশের উপরই নির্ভর করছে নতুন গুন্ডাদমন আইনের ভবিষ্যৎ।









