ডেনমার্কে (Denmark) আজান সম্প্রচার সীমিত বা বন্ধ করার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। দেশটির মন্ত্রী মর্টেন বোডস্কোভ জানিয়েছেন, সারা দেশে এমনভাবে আজানের শব্দ প্রচার হওয়া উচিত নয় যাতে তা প্রত্যেক মানুষের কানে পৌঁছে যায়। তাঁর বক্তব্য, ডেনমার্কের (Denmark) নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি এবং দেশের জনজীবনে ধর্মীয় শব্দ সম্প্রচারের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
মন্ত্রী আরও দাবি করেছেন, ডেনমার্কে (Denmark) ইসলামি রীতিনীতির প্রভাব নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা বাড়ছে। সেই কারণেই আজান সম্প্রচারের বর্তমান নিয়ম পরিবর্তনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনও পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আইনি দিক এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্নও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ডেনমার্কে (Denmark) বর্তমানে মোট জনসংখ্যার প্রায় পাঁচ শতাংশ মুসলিম। এর আগে দেশটিতে হিজাব নিয়ে কড়া নিয়ম চালু হয়েছে। পাশাপাশি কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নামাজের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থাও বন্ধ করা হয়েছে। এবার আজান সম্প্রচার নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় দেশজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, আজান সম্প্রচার সীমিত বা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। সেই কারণে সরকার আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামতও নিচ্ছে। অতীতেও ডেনমার্কে এই ধরনের প্রস্তাব উঠেছিল, তবে তা আইনে পরিণত হয়নি।
উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগে ডেনমার্কের (Denmark) প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হয়েছিল। এর আগেও প্রধানমন্ত্রী ডেনমার্ক সফর করেছেন। এছাড়া দুই হাজার তেইশ সালে ধর্মীয় গ্রন্থ পোড়ানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক স্তরে বিতর্কের মুখে পড়েছিল ডেনমার্ক। পরে সরকার ধর্মীয় গ্রন্থ অবমাননার বিরুদ্ধে আইন প্রণয়ন করে। এবার আজান সম্প্রচার নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হওয়ায় বিষয়টি আবারও আন্তর্জাতিক মহলে নজর কেড়েছে।









