দত্তপুকুরের নিবাঁধুই পূর্বপাড়ায় একই ঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে (Duttapukur Death)। মৃতদের নাম প্রসেন দাস ও গীতশ্রী। তাঁদের বিয়ের এক বছরও পূর্ণ হয়নি। শুক্রবার বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় প্রসেন জানিয়েছিলেন, তিনি আর অশান্তি সহ্য করতে পারছেন না। একই সঙ্গে বলেছিলেন, তিনি মরতে চান না, বাঁচতে চান। কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরেই স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই আত্মহত্যা (Duttapukur Death) করেছেন। তবে গীতশ্রীর বাপের বাড়ির লোকজন সেই দাবি মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়, এর পিছনে অন্য কিছু থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের গতিপথ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের দু’এক মাস পর থেকেই গীতশ্রীর শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি শুরু হয়েছিল। শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ এবং ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিল তাঁর পরিবার। ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে গীতশ্রীকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে স্বামী প্রসেনের বিরুদ্ধে গীতশ্রীর পরিবারের কোনও অভিযোগ ছিল না (Duttapukur Death)।
শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ বাবার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলেন গীতশ্রী। এরপর স্বামী-স্ত্রী নিজেদের ঘরে চলে যান। শনিবার সকালে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় পরিবারের লোকজন ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। পরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখা যায়, ফ্যানের সঙ্গে দড়ির ফাঁসে ঝুলছেন প্রসেন ও গীতশ্রী। খবর পেয়ে দত্তপুকুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দু’জনের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
দম্পতির মৃত্যুর পর প্রসেনের বন্ধু চিরঞ্জিত রায়ের বক্তব্যে ঘটনাটি আরও রহস্যময় হয়ে উঠেছে। তাঁর দাবি, শুক্রবারও প্রসেন তাঁর সঙ্গে ছিলেন। বাড়ির অশান্তির কথা প্রায়ই বলতেন তিনি। চিরঞ্জিতের দাবি, প্রসেন জানিয়েছিলেন, তিনি আর অশান্তি সহ্য করতে পারছেন না। একই সঙ্গে তিনি নাকি বলেছিলেন, তিনি মরতে চান না, বাঁচতে চান।
মৃত গীতশ্রীর বাবা রাজেশ পালের অভিযোগ, শ্বশুর, শাশুড়ি, ননদ এবং ননদের স্বামী তাঁর মেয়ে ও জামাইকে মানসিক ভাবে নির্যাতন করতেন। তাঁর দাবি, প্রসেন খুব ভাল ছেলে ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরিবারের কোনও অভিযোগ নেই। ননদের স্বামীর বিরুদ্ধে গীতশ্রীকে খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
গীতশ্রীর বোন রাজশ্রীরও দাবি, তাঁর দিদি ও জামাইবাবু আত্মহত্যা করতে পারেন না। তাঁর অভিযোগ, দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে মানসিক নির্যাতনের শিকার ছিলেন। যদিও গীতশ্রীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পুলিশের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। দত্তপুকুর থানার পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করেছে। বারাসত জেলা পুলিশ সুপার জে মার্সির বক্তব্য, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা খতিয়ে দেখে তদন্ত করা হবে।
দম্পতির ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং তদন্তের পরই তাঁদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে। আপাতত দত্তপুকুরের এই জোড়া মৃত্যু ঘিরে আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনও ঘটনা, সেই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।







