দু’বছর আগের আর জি কর হাসপাতালের সেই স্পর্শকাতর ঘটনায় নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভয়ার মৃত্যুর পর দ্রুত দেহ সৎকারের ঘটনায় চাপ দেওয়ার অভিযোগে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) বৃহস্পতিবার সকালে ওড়িশার বালাসোর থেকে গ্রেফতার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করার কথা রয়েছে।
অভয়ার মৃত্যুর পর তাঁর দেহ দ্রুত সৎকার করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh) বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। পরে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলার ভিত্তিতেই এবার প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরেই নির্মল ঘোষ রাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে তাঁর পরিবারের দাবি। তাঁর বড় মেয়ে ছন্দা ঘোষ জানিয়েছেন, ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই নির্মল মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁকে নানা অপমানের মুখেও পড়তে হয়েছিল। সেই কারণেই তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি পরিবারের।
ছন্দা ঘোষ বলেন, তাঁর বাবার সঙ্গে দীর্ঘদিন পরিবারের কোনও যোগাযোগ ছিল না। পরে তাঁরা জানতে পারেন, বালাসোরের কাছ থেকে নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর কথায়, পরিবারের আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর আস্থা রয়েছে। বাবার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি মিথ্যা এবং আদালতেই তা প্রমাণিত হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।
এর আগে ভোট পরবর্তী হিংসা এবং লটারি সংক্রান্ত মামলায় নির্মল ঘোষের (Nirmal Ghosh) ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। আদালতে তাঁকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয়দের একাংশের হামলার ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার পর নির্মল ঘোষকে নিয়েও এলাকায় ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। তাঁকে গ্রেফতারের দাবিও উঠেছিল।
এর পর থেকেই প্রকাশ্যে খুব একটা দেখা যায়নি নির্মল ঘোষকে (Nirmal Ghosh) । একবার তপসিয়ার একটি ক্লাবে রাজনৈতিক বৈঠক চলাকালীন তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তবে বৈঠকে তিনি ঢুকতে পারেননি। তার পর ফের তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার বালাসোরের কাছ থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
নির্মলের বড় মেয়ে ছন্দা ঘোষের দাবি, তাঁর বাবা দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের পর এখন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। তাঁর অভিযোগ, নতুন করে তদন্তের নামে তাঁর বাবাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্মল ঘোষকে শুক্রবার আদালতে পেশ করা হবে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আর জি করের ঘটনার পর দেহ সৎকারের বিষয়ে কী ভূমিকা ছিল, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। দু’বছর আগের ঘটনাকে ঘিরে নতুন তদন্তে আরও কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর।












