নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের অভিযোগে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে দেওয়া বঙ্গবিভূষণ সম্মান এবার তাঁর কাছ থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি নেতাজিকে নিয়ে অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) একাধিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ, নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি আজাদ হিন্দ ফৌজ নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে চাপানউতোর শুরু হয়। এমনকি নিজের দলের নেতাদের একাংশও অনন্ত মহারাজের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট বার্তা দেন, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে অসম্মান করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। আইন সবার জন্য সমান ভাবে কার্যকর হবে বলেও জানানো হয় (Ananta Maharaj)।
এর পরেই অনন্ত মহারাজের (Ananta Maharaj) বঙ্গবিভূষণ সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত সামনে আসে। রাজ্য সরকারের জারি করা নোটিসে বলা হয়েছে, সামাজিক অবদানের কথা বিবেচনা করেই তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর এমন কিছু কর্মকাণ্ড ও মন্তব্য সামনে এসেছে, যা সমাজের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং রাজ্যের মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেই কারণেই সম্মান প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি অনন্ত মহারাজকে বঙ্গবিভূষণ সম্মান দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ সম্মান পাওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করা হল। ফলে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও নেতাজিকে নিয়ে মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু দেশের সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের অন্যতম। মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য যিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, তাঁকে নিয়ে কারও এমন মন্তব্য করা উচিত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, শুধু সম্মান প্রত্যাহার করলেই হবে না, অনন্ত মহারাজের সাংসদপদ খারিজের জন্যও উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি পদক্ষেপের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এর মধ্যেই আরও একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর এবার কি অনন্ত মহারাজকে গ্রেফতার করা হবে? মুখ্যমন্ত্রী আগে জানিয়েছিলেন, নেতাজি সম্পর্কে কটূক্তি করলে প্রয়োজনে গ্রেফতারও করা হতে পারে। যদিও তিনি কারও নাম সরাসরি নেননি, তাঁর বক্তব্য ছিল, আইনের চোখে সবাই সমান।
ফলে বঙ্গবিভূষণ প্রত্যাহারের পর অনন্ত মহারাজের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। গ্রেফতারি হবে কি না, নাকি এখানেই থামবে রাজ্য সরকারের পদক্ষেপ, তা নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে।












