কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে (KMC) প্রায় তিন দশকের মধ্যে প্রথমবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কাউন্সিলর না থাকায় একশো কোটিরও বেশি উন্নয়ন তহবিল খরচ করা যাচ্ছে না। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন, সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের একাধিক প্রকল্প কার্যত থমকে রয়েছে। ফলে রাস্তা, পানীয় জল, নিকাশি, আলো এবং পার্ক সংস্কারের মতো জরুরি কাজও অনেক জায়গায় এগোচ্ছে না।
পুর বাজেটে প্রতিটি ওয়ার্ডের (KMC) জন্য উন্নয়ন খাতে প্রায় পঁয়ষট্টি থেকে পঁচাত্তর লক্ষ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বিধানসভা নির্বাচন ঘোষণার পর এবং পরে মেয়রের ইস্তফার জেরে পুরবোর্ড ভেঙে যাওয়ায় বর্তমানে কোনও ওয়ার্ডেই কাউন্সিলর নেই। ফলে নতুন প্রকল্পের সুপারিশ করা সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে বরো কমিটি এবং মেয়র পারিষদের বৈঠক না হওয়ায় উন্নয়ন তহবিল অনুমোদনের প্রক্রিয়াও আটকে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবার উপর।
পুরসভার (KMC) শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের একাংশের মতে, আগামী পুর নির্বাচন শেষে নতুন বোর্ড গঠন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে অনেকটাই সময় লাগবে। তাই চলতি আর্থিক বছরে এই বিপুল বরাদ্দ অর্থ খরচ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অব্যবহৃত অর্থ ট্রেজারিতে ফিরে যেতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।
যদিও পুরসভার (KMC) কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, আগে থেকে অনুমোদিত বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত নিয়মে চলছে। তবে নতুন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সমস্যা তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণেই সাধারণ মানুষের উন্নয়নের টাকা আটকে রয়েছে। বিজেপির দাবি, মেয়রের ইস্তফার কারণেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে বাম নেতৃত্বের আশঙ্কা, চলতি বছরে বরাদ্দ অর্থ খরচ না হলে আগামী আর্থিক বছরে ওয়ার্ডভিত্তিক বরাদ্দ কমে যেতে পারে। বিদায়ী বোর্ডের একাংশও স্বীকার করেছে, উন্নয়ন তহবিল ব্যবহার না হওয়ায় বাজেটের উপর তার প্রভাব পড়বে।












