সরকারি প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর। অভিযোগের তির তৃণমূলের এক গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানের (Panchayat Pradhan) দিকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, একশো দিনের কাজ, রাস্তা নির্মাণ, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের একাধিক প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করে বিলাসবহুল ফার্ম হাউস তৈরি করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে জেলা প্রশাসন।
অভিযুক্ত প্রধান মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন হরিশ্চন্দ্রপুর দুই নম্বর ব্লকের মালিওর এক নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান (Panchayat Pradhan)। অভিযোগে তাঁর স্বামী আব্দুর রহমান এবং ছেলে ফিরোজ খানের নামও রয়েছে। এই অভিযোগ ব্লক প্রশাসন থেকে জেলাশাসকের কাছেও জমা পড়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে বিজেপিও।
অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করে প্রধানের বাড়িতে তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল ফার্ম হাউস। একশো দিনের কাজ, রাস্তা নির্মাণ, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রকল্প, কমিউনিটি হল, কমিউনিটি শৌচালয়, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা-সহ একাধিক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে বলেও অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, প্রধানের ছেলে ঠিকাদার হওয়ায় অধিকাংশ কাজ তাঁর সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বজনপোষণ করে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে (Panchayat Pradhan)।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একশো দিনের কাজের প্রায় এক কোটি আশি লক্ষ টাকা এবং পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের প্রায় সত্তর লক্ষ টাকা প্রধানের ছেলের হিসাবে গিয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ, প্রধানের স্বামীই পঞ্চায়েতের সমস্ত কাজ পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানের স্বাক্ষর জাল করেও আর্থিক লেনদেন হয়েছে। সরকারি টাকায় তৈরি হয়েছে বিলাসবহুল ফার্ম হাউস, যেখানে রয়েছে বড় বাগান, পুকুর এবং নানা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। অভিযোগকারীদের বক্তব্য, আগের সরকারে বহুবার অভিযোগ জানিয়েও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাই এবার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য সামনে আনার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
বিজেপি নেতা ওমপ্রকাশ ঘোষ বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। প্রধানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত। তিনি জানান, বিষয়টি বিডিও, থানার কর্তৃপক্ষ, জেলাশাসক এবং পঞ্চায়েত মন্ত্রীর কাছেও জানানো হবে। তাঁর দাবি, প্রধানের সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখা জরুরি।
অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান (Panchayat Pradhan) মোসাম্মৎ সেতারা খাতুন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, তাঁর ছেলে একজন বৈধ ঠিকাদার এবং নিয়ম মেনেই কাজ পেয়েছেন। ফার্ম হাউস প্রসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, এই সম্পত্তি কবে তৈরি হয়েছে, তা তদন্ত করলেই সত্য প্রকাশ্যে আসবে। প্রধানের স্বামী আব্দুর রহমানও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, সমস্ত প্রকল্পের কাজ নিয়ম মেনেই হয়েছে এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াতেই অর্থ প্রদান করা হয়েছে।













