পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে শাসকবিরোধী আন্দোলন আরও জোরালো হচ্ছে। টানা চব্বিশ দিনের বিক্ষোভে বৃহস্পতিবারও রাস্তায় নামলেন হাজার হাজার মানুষ। ইদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত বিশাল সমাবেশে প্রায় আশি হাজার মানুষের উপস্থিতির দাবি করা হয়েছে। এই সমাবেশ থেকেই পাকিস্তান সরকার ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির নেতা সর্দার আমন খান (POK)।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, কাশ্মীরিদের হাতে একসময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীই অস্ত্র তুলে দিয়েছিল। অথচ এখন তারাই কাশ্মীরিদের সন্ত্রাসবাদী বলে অপমান করছে। তাঁর অভিযোগ, এই অবস্থান সম্পূর্ণ ভণ্ডামির পরিচয় দেয় (POK)।
আমন খান (POK) আরও দাবি করেন, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে জইশ-ই-মহম্মদের একটি কর্মসূচিতে প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিছিল করা হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, সেই কর্মসূচির জন্য প্রশাসনের তরফে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হয়েছিল। এই ঘটনাকে সামনে এনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে সাধারণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কেন এত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিক্ষোভ মঞ্চ থেকে যৌথ আওয়ামি অ্যাকশন (POK) কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবাধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা-সহ মোট আটত্রিশ দফা দাবি দ্রুত মানতে হবে। অন্যথায় আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁদের ন্যায্য দাবিগুলি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষা করা হয়েছে। পরিস্থিতির পরিবর্তন না হলে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরে আরও বড় গণআন্দোলন শুরু হবে এবং পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনের নেতারা। এই ঘটনায় পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।











