দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে খুলে গেল নৈহাটি (Naihati) জুটমিল। এর ফলে প্রায় দুই হাজার সাতশো শ্রমিক এবং তাঁদের পরিবারের মুখে ফিরল হাসি। বহুদিনের অনিশ্চয়তার অবসান হওয়ায় জুটমিল চত্বরে শুরু হয় উৎসবের আবহ। কেউ বাজি ফাটিয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন, আবার কেউ লাড্ডু বিলি করে এই সুখবর উদযাপন করেন।
দীর্ঘ সময় ধরে জুট শিল্পে অচলাবস্থা চলার পর নতুন সরকার বন্ধ কারখানাগুলি চালু করার উদ্যোগ নেয় (Naihati)। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনতে শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং নিয়মিত শ্রমিক, মালিকপক্ষ এবং শ্রম দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করছেন। সেই উদ্যোগের ফলেই ধাপে ধাপে খুলতে শুরু করেছে একাধিক বন্ধ জুটমিল।
শিল্পাঞ্চলের (Naihati) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি অনুযায়ী, একসময় ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের আঠারোটি জুটমিল বন্ধ ছিল। বর্তমানে একের পর এক কারখানা চালু হতে শুরু করেছে। প্রথমে ভাটপাড়ার একটি জুটমিল, তারপর জগদ্দলের আর একটি জুটমিল চালু হয়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল নৈহাটি জুটমিল। এতে হাজার হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জুট শিল্পের অতীত পরিস্থিতি নিয়ে শ্রমমন্ত্রী (Naihati) অর্জুন সিং তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেছেন। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে জুটমিলগুলিতে বারবার অশান্তির পরিবেশ তৈরি হওয়ায় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন সরকার শিল্পের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর বলেও তিনি জানিয়েছেন।
তবে শুধু কারখানা চালু করাই নয়, শ্রমিক ও মালিক— উভয় পক্ষকেই দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন শ্রমমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে মালিকদেরও শ্রমিকদের উপর অতিরিক্ত কাজের চাপ না দিয়ে তাঁদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ক্যান্টিন, কর্মপরিবেশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সুবিধার দিকেও নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে (Naihati)।
সরকারের দাবি, রাজ্যে শিল্পের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও জুটমিলে অশান্তি বা অচলাবস্থা না তৈরি হয়, সেদিকে প্রশাসনের কড়া নজর থাকবে। বন্ধ জুটমিল খুলে যাওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন হাজার হাজার শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার।








