মার্কিন রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সাম্প্রতিক এক ঐতিহাসিক রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) সাংবিধানিক ক্ষমতা আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। আদালতের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নীতিগত মতপার্থক্যের কারণেও প্রেসিডেন্ট স্বাধীন ফেডারেল সংস্থার প্রধানদের পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারবেন। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগের নিয়মই বহাল থাকবে।
ছয় বনাম তিন বিচারপতির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে (Donald Trump)। ছয়জন বিচারপতি প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত দেন, আর তিনজন বিচারপতি এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।
এই মামলার সূত্রপাত হয় ফেডারেল বাণিজ্য কমিশনের কমিশনার রেবেকা স্লটারকে ঘিরে। তাঁকে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন নিয়োগ করেছিলেন। পরে নীতিগত মতভেদের কারণে ট্রাম্প তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেন। কিন্তু প্রচলিত আইনে নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া ওই পদ থেকে কাউকে অপসারণ করা যেত না। সেই বিষয়টিই আদালতের সামনে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।
রায়ে সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, এই ধরনের আইনি সুরক্ষা প্রেসিডেন্টের (Donald Trump) সাংবিধানিক ক্ষমতার উপর অপ্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। আদালতের মতে, নির্বাহী বিভাগের কাজের সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলির শীর্ষ কর্মকর্তাদের অপসারণের ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকা উচিত। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসও একই মত প্রকাশ করেছেন।
এই রায়ের মাধ্যমে কার্যত একানব্বই বছরের পুরনো একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি নজিরের অবসান ঘটল। উনিশশো পঁয়ত্রিশ সালের ঐতিহাসিক মামলার রায় এতদিন স্বাধীন সরকারি সংস্থার প্রধানদের রাজনৈতিক কারণে অপসারণের হাত থেকে সুরক্ষা দিয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই অবস্থান বদলে গেল।
রায় ঘোষণার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এটিকে নিজের বড় জয় বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতাকে আরও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে। বহু দশক ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা যে ক্ষমতার দাবি জানিয়ে এসেছেন, আদালতের এই রায় সেই দাবিকেই স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তাঁর মত।
তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আদালতের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমেয়রসহ তিনজন বিচারপতি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এই রায়ের ফলে বহু স্বাধীন সরকারি সংস্থা সরাসরি প্রেসিডেন্টের প্রভাবের আওতায় চলে আসতে পারে। তাঁদের মতে, এতে সরকারের বিভিন্ন স্তরের ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই রায় মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না। ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীন অবস্থান আগের মতোই বজায় থাকবে। একই দিনে ফেডারেল রিজার্ভের এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে অপসারণের আবেদনও আদালত গ্রহণ করেনি। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসনে কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।
এই ঐতিহাসিক রায়কে ঘিরে এখন মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। আগামী দিনে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা এবং স্বাধীন সরকারি সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে আরও বড় আইনি ও রাজনৈতিক আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










