হলদিয়া (Haldia) পেট্রোকেমিক্যালস এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। মঙ্গলবার ভোরে হলদিয়ার তেরো নম্বর ওয়ার্ডের চিরঞ্জিপুর এলাকায় ন্যাপথা পাইপলাইনে আগুন লাগে বলে জানা গিয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি দমকল কর্মীরা। ঘটনায় অন্তত পনেরো জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন (Haldia)। তাঁদের মধ্যে ছয় জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
প্রথমে ঘটনাস্থলে দমকলের ছয়টি ইঞ্জিন পৌঁছয়। পরে আরও ছয়টি ইঞ্জিন যোগ দেওয়ায় মোট বারোটি ইঞ্জিন আগুন নেভানোর কাজে নেমেছে (Haldia)। জল ও বিশেষ ফোম ব্যবহার করেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের (Haldia) দাবি, সোমবার রাত থেকেই এলাকায় গ্যাসের তীব্র গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে চারটা থেকে পৌনে পাঁচটার মধ্যে হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপরই চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখা যায়। গ্যাস লিক হওয়ায় আগুন দ্রুত পাশের বস্তি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই একাধিক বাড়ি ও দোকান আগুনে পুড়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে (Haldia)। বহু মানুষ প্রাণ বাঁচাতে বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত বহু বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আগুনে বেশ কয়েকটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অগ্নিদগ্ধদের মধ্যে দুই মহিলাও রয়েছেন (Haldia)। তাঁদের উদ্ধার করে প্রথমে হলদিয়া মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কয়েক জনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তমলুক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই অগ্নিকাণ্ডের জেরে রেল পরিষেবাতেও বড় প্রভাব পড়েছে। হলদিয়া-পাঁশকুড়া রুটে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আসানসোল-হলদিয়া এক্সপ্রেস আপাতত তমলুক পর্যন্ত চলবে। ফের তমলুক থেকেই ট্রেনটি আসানসোলের উদ্দেশে রওনা দেবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত যাত্রীদের ভোগান্তি চলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগেই গ্যাসের গন্ধের বিষয়টি জানানো হলেও সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে এত বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।








