উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের সীমান্তে বৃহস্পতিবার তৈরি হল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। শত শত নিহঙ্গ শিখ (Nihang Sikhs) সীমান্তের কাছে জড়ো হওয়ায় প্রশাসনের উদ্বেগ বেড়েছে। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা চললেও কোনও সমাধান সূত্র বের হয়নি। এরপরই সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, একদল নিহঙ্গ শিখ (Nihang Sikhs) হিমাচলের একটি গুরুদ্বারে অবস্থান করার পর উত্তরাখণ্ডে প্রবেশের উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে রওনা দেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের মিছিল স্থগিত রাখার অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি। ফলে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোনও।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক ঘটনাকে ঘিরে। প্রথম ঘটনা উত্তরাখণ্ডের কর্ণপ্রয়াগ এলাকায়। সেখানে পার্কিং নিয়ে বচসার জেরে নিহঙ্গ তীর্থযাত্রীদের (Nihang Sikhs) সঙ্গে স্থানীয়দের সংঘর্ষ বাধে। ঘটনায় দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে কয়েকজন নিহঙ্গকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিখ সংগঠন প্রতিবাদ জানায়। তাঁদের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের ধর্মীয় রীতিনীতির প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হয়নি। পাশাপাশি স্থানীয়দের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ গ্রহণে দেরি হয়েছে বলেও দাবি ওঠে।
পরবর্তীতে বিষয়টির তদন্তে উচ্চপর্যায়ের নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে পাল্টা অভিযোগও নথিভুক্ত করা হয় (Nihang Sikhs)।
এরপর আরেকটি বিতর্ক সামনে আসে একটি গুরুদ্বারকে কেন্দ্র করে। সেখানে খাবার বিতরণ এবং প্রশাসনিক কিছু বিষয় নিয়ে মতবিরোধের জেরে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে কয়েকদিন ধরে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। পরে শিখ সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
যদিও প্রশাসনের দাবি, দুটি ঘটনার মধ্যে কোনও সরাসরি যোগসূত্র নেই। তবে সমাজমাধ্যমে নানা ধরনের দাবি ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। সেই কারণেই গুজব রুখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।
বর্তমানে চারধাম যাত্রা এবং হেমকুণ্ড সাহিব তীর্থযাত্রা চলার কারণে উত্তরাখণ্ডে লক্ষ লক্ষ ভক্তের যাতায়াত রয়েছে। তাই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।





