ভোট শুরুর আগেই ঝাড়গ্রামে অদ্ভুত ঘটনা। ভোটারদের লাইনের মাঝেই হাজির হয়ে গেল ‘রামলাল’। জিতুশোল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে আচমকাই এসে দাঁড়ায় এই দাঁতাল হাতি (Jhargram)। মুহূর্তে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। ভোটকর্মী থেকে সাধারণ মানুষ, সবাই একসঙ্গে হতবাক হয়ে যায় এই দৃশ্যে (Jhargram)।
রামলাল এই এলাকার চেনা মুখ। সে প্রায়ই এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে ঘুরে বেড়ায় খাবারের খোঁজে। স্থানীয় মানুষজনও তাকে ভালবেসে খাবার দেন। ঝাড়গ্রাম (Jhargram), পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ছাড়াও পাশের রাজ্যগুলিতেও তার অবাধ যাতায়াত রয়েছে। ভোটের দিনও নিজের মতো করেই হেঁটে এসে পৌঁছে যায় ভোটকেন্দ্রের সামনে। এমনকি একটি দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ির দিকেও এগিয়ে গিয়ে উঁকি দিতে দেখা যায় তাকে। হাতিটিকে দেখতে ভিড় জমে যায় বুথের আশেপাশে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনকর্মীরা (Jhargram)। লোধাশুলি এলাকার বনদপ্তরের কর্মীরা এসে হাতিটিকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নিয়ে যান। তারপর আবার স্বাভাবিক ছন্দে শুরু হয় ভোটগ্রহণ।
জঙ্গলমহল এলাকায় মানুষ ও হাতির মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। প্রায়ই হাতির দাপটে সমস্যায় পড়েন গ্রামবাসীরা। এই সমস্যা মোকাবিলায় বনদপ্তর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে সাফল্যও মিলেছে।
ভোটের দিন যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়েছে বনদপ্তর। হাতির চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছে। রয়েছে প্রশিক্ষিত দল, দ্রুত সাড়া দেওয়ার ব্যবস্থা এবং নজরদারি গাড়ি। বুথকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ভোট শেষ হওয়া পর্যন্ত এবং ইভিএম নিরাপদে পৌঁছনো পর্যন্ত বনকর্মীরা সতর্ক নজর রাখছেন।
সব মিলিয়ে ভোটের দিন ঝাড়গ্রামে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনায় কিছুটা উত্তেজনা তৈরি হলেও, দ্রুত পরিস্থিতি সামলে নেওয়ায় নির্বিঘ্নেই চলছে ভোট।












