পশ্চিমবঙ্গে বহু ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে যাঁদের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে, তাঁরা যাতে ভোট দিতে পারেন, সেই আবেদন জানানো হয়েছিল আদালতে। কিন্তু আপাতত স্পষ্ট হয়ে গেল, বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না (Supreme Court)।
সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) শুনানিতে এই বিষয়টি সামনে আসে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। তার আগে কারা ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়ে কিছুটা স্পষ্টতা এসেছে।
প্রধান বিচারপতি (Supreme Court) জানিয়েছেন, বহু মামলার নিষ্পত্তি হয়ে গেছে। এখনও কিছু মামলা প্রযুক্তিগত কারণে মুলতুবি রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল কাজ শুরু করেছে এবং ধাপে ধাপে মামলার শুনানি চলছে।
আদালতে (Supreme Court) জানানো হয়েছে, কয়েক লক্ষ আবেদন জমা পড়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি তারিখে যাঁদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। অর্থাৎ যাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে, তাঁরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
এদিকে আদালতে রাজ্যের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, বহু মানুষের আবেদন এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাঁদেরও ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। এই দাবি শুনে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়ে কোনও পরিবর্তন করা যাবে না।
রাজ্যের আইনজীবী আরও অনুরোধ করেন, ভোটের আগে যত সম্ভব মামলার নিষ্পত্তি করা হোক। তবে আদালত জানায়, ট্রাইব্যুনালের উপর এভাবে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়।
শুনানির সময় এই বিষয়কে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মধ্যে তর্ক-বিতর্কও হয়। এক পক্ষের দাবি, ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। অন্য পক্ষের বক্তব্য, আইন অনুযায়ীই সব কিছু করতে হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষের আইনজীবী বলেন, যাঁদের ভোটাধিকার চলে গিয়েছে বা যাঁরা বিচারাধীন তালিকায় রয়েছেন, তাঁদের সুযোগ দেওয়া উচিত। তবে নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী এই দাবির বিরোধিতা করেন এবং বর্তমান নিয়ম বজায় রাখার পক্ষে মত দেন।
আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আরও ভাবনার প্রয়োজন রয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে পরবর্তী শুনানিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে ভোটার তালিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং বিতর্ক আরও বেড়ে গেল। এখন সকলের নজর আগামী সপ্তাহের শুনানির দিকে।












