সুরের জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। ৯২ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন কিংবদন্তি গায়িকা আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle)। মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে আজ দুপুরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মাল্টিপল অর্গান ফেলিওরের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রায় আট দশকের দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনের ইতি ঘটল এই মহারথীর প্রয়াণে।
আশা ভোঁসলের (Asha Bhosle) মৃত্যুর খবরে শোকস্তব্ধ সঙ্গীত জগৎ। ভেঙে পড়েছেন সুরকার জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, লতা মঙ্গেশকর হোন বা আশা ভোঁসলে—এই ধরনের শিল্পীরা কখনও মারা যান না, তাঁদের সৃষ্টিই তাঁদের বাঁচিয়ে রাখে।
আবেগঘন স্মৃতিচারণায় জিৎ জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি আশা ভোঁসলের (Asha Bhosle) গান শুনে বড় হয়েছেন। তাঁর কথায়, যশ চোপড়ার ছবিতে কাজ করার সময় ‘শারারা শারারা’ গানে আশা ভোঁসলের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যা তাঁর জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। সেই রেকর্ডিংয়ের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অমূল্য।
তিনি আরও বলেন, আগামী একশো বছরে এমন মানের শিল্পী (Asha Bhosle) পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। শুধু গায়িকা হিসেবেই নয়, নানা ধরনের সঙ্গীতে পারদর্শিতা ছিল আশা ভোঁসলের। শাস্ত্রীয় সঙ্গীত থেকে আধুনিক, লোকগান থেকে বিভিন্ন ঘরানা—সবেতেই তিনি নিজের ছাপ রেখে গিয়েছেন। তাঁর মতে, আশা ভোঁসলের প্রতিটি গান শুধু গান নয়, তার মধ্যে অভিনয় ও অনুভূতির মিশেল থাকে, যা নতুন প্রজন্মের কাছে বড় শিক্ষার বিষয়।
১৯৩৩ সালে মহারাষ্ট্রের সাঙ্গলিতে জন্ম নেওয়া আশা ভোঁসলে (Asha Bhosle) মাত্র ১০ বছর বয়সে গান শুরু করেন। দীর্ঘ জীবনে তিনি ১১ হাজারের বেশি গান গেয়েছেন। ‘ও হাসিনা জুলফওয়ালি’ থেকে ‘দিল চিজ় ক্যায়া হ্যায়’—তাঁর কণ্ঠের বৈচিত্র্য ছিল অসাধারণ। তিনি দাদাসাহেব ফালকে সম্মান ও পদ্মবিভূষণেও ভূষিত হন।
ব্যক্তিগত জীবনেও নানা চড়াই-উতরাইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুজনিত দুঃখও তাঁকে সহ্য করতে হয়েছে। তবুও সঙ্গীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসা কখনও কমেনি।
শেষে জিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আশা ভোঁসলের মৃত্যু নেই। তিনি তাঁর হাজার হাজার গানের মধ্য দিয়ে মানুষের মনে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। আগামীকাল বিকেলে মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।











