বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধারের ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছিল। সেই বিতর্ক ও তদন্তের মাঝেই অবশেষে বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি যশবন্ত ভর্মা (Justice Yashwant Verma)। জানা গিয়েছে, তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছেন। এর আগেই তাঁর বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে তিনি নিজে থেকেই পদত্যাগ করায় সেই প্রক্রিয়া আর এগোবে না বলে জানা যাচ্ছে।
খবর অনুযায়ী, এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি পদ থেকেও তিনি ইস্তফা দিয়েছেন (Justice Yashwant Verma)। তাঁর ইস্তফাপত্রে কোনও কারণ উল্লেখ করা হয়নি। লোকসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, যেহেতু তিনি নিজে পদ ছেড়েছেন, তাই তাঁকে সরানোর জন্য আলাদা করে ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া চালানোর প্রয়োজন পড়বে না।
এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয় গত বছরের ১৪ মার্চ (Justice Yashwant Verma)। দিল্লির লুটিয়েন্স এলাকায় অবস্থিত বিচারপতি ভর্মার সরকারি বাড়িতে আচমকা আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে দমকল কর্মীরা বাড়ির একটি স্টোররুম থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার করেন। টাকার বেশিরভাগই আগুনে পুড়ে গিয়েছিল, ফলে সঠিক পরিমাণ জানা যায়নি। তবে টাকার স্তূপ প্রায় দেড় ফুট উঁচু ছিল বলে জানা যায়।
ঘটনার সময় বিচারপতি ভর্মা ও তাঁর স্ত্রী ভোপালে ছিলেন। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে নিজের কোনও যোগ নেই বলে দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই টাকা তাঁর নয় এবং তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় তাঁকে দায়ী করা উচিত নয়।
এই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট তিন বিচারকের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সেই কমিটি পরে রিপোর্ট জমা দেয় তৎকালীন প্রধান বিচারপতির কাছে। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া টাকার ছবি ও ভিডিওও সামনে আসে। এরপর তাঁকে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতির পদ থেকে সরিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয়। সেখানে তাঁকে বিচার সংক্রান্ত কোনও কাজও দেওয়া হয়নি।
পরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যদিও সেই কমিটির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন বিচারপতি ভর্মা। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ বিতর্ক ও চাপের মাঝে তিনি নিজেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।










