একটি সাধারণ জীবন, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানানো—সবকিছুর আড়ালে লুকিয়ে ছিল ভয়ঙ্কর অভিযোগ। হায়দরাবাদের (Hyderabad) বাসিন্দা ৩৮ বছরের সায়েদা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে অন্ধ্র প্রদেশ পুলিশ। অভিযোগ, তিনি আন্তঃরাজ্য জঙ্গি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং অনলাইনে তরুণদের উগ্রপন্থার দিকে টানার কাজে জড়িত ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ মার্চ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় (Hyderabad)। তদন্তে উঠে এসেছে, ‘খাওয়াতিন’ নামে একটি মহিলা শাখা তৈরি করার পরিকল্পনা ছিল, যেখানে সায়েদাকে নেত্রী করার কথা ভাবা হচ্ছিল। অভিযোগ, ওই সংগঠনের মাধ্যমে মহিলাদের অস্ত্র চালানো ও বিস্ফোরক ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও ছিল।
সায়েদা পেশায় গৃহপরিচারিকার কাজ করতেন (Hyderabad)। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর প্রায় ৩৮ হাজার অনুসারী ছিল। পুলিশ দাবি করেছে, তিনি অন্তত বিয়াল্লিশ জন মহিলাকে এই চক্রে যুক্ত করেছিলেন।
এফআইআরে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি এমন কিছু অনলাইন গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যেখানে জঙ্গি সংগঠনের প্রচারমূলক ভিডিও এবং উগ্রপন্থী বক্তাদের বক্তব্য ছড়ানো হত। তদন্তকারীদের মতে, এই গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে বিদেশি জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগও থাকতে পারে (Hyderabad)।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই চক্রের মূল অভিযুক্ত রহমতুল্লাহ শরিফের সঙ্গে সায়েদা কাজ করতেন। তাঁর সঙ্গে যুক্ত আরও কয়েকজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সায়েদা। তাঁর দাবি, তিনি নিজে কোনও গোষ্ঠী তৈরি করেননি। তাঁকে অজান্তেই কিছু গোষ্ঠীতে যুক্ত করা হয়েছিল। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি লিঙ্ক পান, সেখান থেকেই তিনি ওই গোষ্ঠীতে যুক্ত হন।
জানা গিয়েছে, হায়দরাবাদের চাঞ্চলগুড়া এলাকায় বাবা-মা ও ছোট ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। সংসার চালাতে কয়েকটি বাড়িতে কাজ করতেন। পাশাপাশি রান্না ও স্থানীয় ব্যবসার প্রচারের জন্য ছোট ভিডিও বানাতেন। সেই সূত্রেই কিছু আয়ও হত তাঁর।
প্রতিবেশীদের দাবি, তিনি খুবই চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন এবং বেশিরভাগ সময় মোবাইল নিয়েই কাটাতেন। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্ত এখনও চলছে।













