মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার বাসিন্দা নীলম তানাজি শিন্ডে, বয়স মাত্র পঁয়ত্রিশ। বিদেশে পড়াশোনা করতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন তিনি (Indian Student Death)। দীর্ঘ প্রায় চৌদ্দ মাস কোমায় থাকার পর শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হল তাঁর। তবে মৃত্যুর পরও বহু মানুষের জীবনে নতুন আলো জ্বেলে গেলেন তিনি।
গত বছর ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার স্যাক্রামেন্টো শহরে একটি পথদুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন নীলম। একটি গাড়ি ধাক্কা মেরে পালিয়ে যায়। সেই ঘটনায় তাঁর মাথা, হাত, পা এবং বুকে গুরুতর চোট লাগে। দ্রুত অস্ত্রোপচার করা হলেও তিনি আর জ্ঞান ফিরে পাননি। দীর্ঘদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি (Indian Student Death)।
চিকিৎসার সময়ে তাঁর শরীরে সংক্রমণ-সহ একাধিক জটিলতা দেখা দেয়। অবস্থার কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকেরা জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তার পরই দ্রুত অবনতি হয় তাঁর শারীরিক অবস্থার এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় (Indian Student Death)।
এই দীর্ঘ সময়ে নীলমের পরিবারকে চরম মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে। তাঁর বাবা আমেরিকায় যাওয়ার জন্য ভিসা পেতে বহু সমস্যার মুখে পড়েন। অনেক চেষ্টা ও আবেদন করার পর অবশেষে তিনি এবং নীলমের ভাই আমেরিকায় পৌঁছতে পারেন। তবে ততদিনে অনেকটাই সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। এর মধ্যেই দুর্ঘটনার কিছুদিন আগে নীলমের মায়েরও মৃত্যু হয়েছিল, ফলে তাঁর বাবা একাই এই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
তবে এই শোকের মধ্যেও এক আশার আলো রেখে গিয়েছেন নীলম। জীবিত অবস্থায় তিনি অঙ্গদান করার অঙ্গীকার করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁর পরিবার সেই ইচ্ছা পূরণ করে। প্রায় আট দিনের প্রক্রিয়ার পর তাঁর অঙ্গগুলি সফলভাবে দান করা হয়। এতে একাধিক মানুষের জীবন রক্ষা পাবে বলে জানা গিয়েছে।
নীলম গত চার বছর ধরে আমেরিকায় কম্পিউটার বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছিলেন। নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে বাড়ি ছেড়েছিলেন তিনি। সেই স্বপ্নের পথেই শেষ হল তাঁর জীবনযাত্রা, তবে তাঁর মানবিকতা ও অঙ্গদান তাঁকে অমর করে রাখবে।
তাঁর শেষকৃত্য আমেরিকাতেই হিন্দু রীতি মেনে সম্পন্ন করা হবে। পরিবার শোকে ভেঙে পড়লেও এই ভেবেই সান্ত্বনা পাচ্ছে যে, নীলমের অঙ্গ অন্যদের নতুন জীবন দেবে।











