নেপালে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হল। নির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর শুক্রবার দেশের ৪৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তরুণ নেতা বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)। মাত্র পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে তিনি নেপালের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হলেন। তাঁর শপথগ্রহণের পরই অভিনন্দন জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
কাঠমান্ডু-র রাষ্ট্রপতি ভবনে এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পাউডেল তাঁকে (Balendra Shah) শপথবাক্য পাঠ করান। ঐতিহ্য মেনে শঙ্খধ্বনি, বৈদিক মন্ত্রপাঠ এবং বৌদ্ধ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। দেশের বিভিন্ন শীর্ষ আধিকারিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বলেন্দ্র শাহের উত্থান অনেকের কাছেই চমকপ্রদ। তিনি (Balendra Shah) আগে র্যাপার হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তাঁর বিশেষ প্রভাব ছিল। পাশাপাশি তিনি পেশায় একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। এর আগে তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র হিসেবেও কাজ করেছেন। মেয়র হিসেবে তাঁর কাজ সাধারণ মানুষের মধ্যে তাঁকে আরও জনপ্রিয় করে তোলে।
গত বছর রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পদ ছাড়েন। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। চলতি বছরের নির্বাচনে বহু রাজনৈতিক দল অংশ নেয়। তবে কোনও বড় দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে মনে করা হচ্ছিল না। সেই পরিস্থিতিতে বলেন্দ্র শাহের নেতৃত্বে নতুন দল হঠাৎই বড় সাফল্য পায়। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের সমর্থনই তাঁর জয়ের মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বলেন্দ্রর (Balendra Shah) উপর প্রত্যাশা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এখন তাঁর বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গে নেপালের সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তাও দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তিনি জানিয়েছেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এক তরুণ নেতার হাত ধরে নেপালে নতুন সূর্যোদয়ের ইঙ্গিত দেখছেন অনেকে।











