সমগ্র উত্তর হাওড়ার (Howrah) পিলখানা এলাকায় রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি করে এক যুবককে খুনের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়েছে। মৃত যুবকের নাম সফিক খান, যিনি পেশায় প্রোমোটার বলে জানা গিয়েছে। ভোরবেলা খুব কাছ থেকে গুলি চালানোর এই ঘটনা ধরা পড়েছে সিসিটিভি ক্যামেরায়। পুলিশ সূত্রে অভিযোগ, এই খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হারুন খান এবং তার সঙ্গী রোহিত। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে এবং রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে (Howrah)।
খুনের ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে হারুন খানের (Howrah) রাজনৈতিক যোগ নিয়ে। সামাজিক মাধ্যমে একাধিক ছবি ও ভিডিও সামনে এসেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী-র বিভিন্ন প্রচার কর্মসূচিতে তার আশপাশে ঘোরাফেরা করছেন হারুন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, হারুনের বিরুদ্ধে আগেও নানা অপরাধের অভিযোগ ছিল এবং শাসকদলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে (Howrah)।
বিতর্ক বাড়তেই মুখ খুলেছেন বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। তিনি হারুনকে চিনলেও ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে সামাজিক কাজ করতে গিয়ে বহু মানুষের সঙ্গে দেখা হয়, তাই কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রমাণ হয় না। তিনি আরও বলেন, এ রাজ্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বে শান্তির পথে এগিয়েছে এবং অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই ঘটনায় শাসকদলকে আক্রমণ করতে ছাড়েনি ভারতীয় জনতা পার্টি। দলের মুখপাত্র জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, রাজ্যে অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গে শাসকদলের নেতাকর্মীদের যোগ রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে। একই সুরে বিজেপি নেতা উমেশ রাই দাবি করেন, পিলখানার একটি অনুষ্ঠানে হারুনকে প্রকাশ্যে প্রশংসা করেছিলেন বিধায়ক এবং এলাকায় দুষ্কৃতীচক্র গড়ে উঠেছে।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে খুন, রাজনৈতিক যোগ এবং পাল্টা অভিযোগে উত্তর হাওড়ার পিলখানায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে।













