Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • দেশ
  • খুনের পর প্রমাণ মুছতে ভয়ঙ্কর ছক, পরিবারের স্বাভাবিক আচরণে আরও বাড়ল রহস্য
দেশ

খুনের পর প্রমাণ মুছতে ভয়ঙ্কর ছক, পরিবারের স্বাভাবিক আচরণে আরও বাড়ল রহস্য

lucknow murder
Email :4

লখনউয়ে ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিং খুনের (Lucknow Murder) ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য। অভিযোগ, তাঁর ছেলে অক্ষত প্রতাপ সিং বাবাকে গুলি করে খুন করার পর দেহ টুকরো করে নীল প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে লুকিয়ে রাখে (Lucknow Murder)। ঘটনার পাঁচ দিন পর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, খুনের কারণের পাশাপাশি এখন প্রমাণ লোপাট ও আত্মীয়দের বিভ্রান্ত করার পরিকল্পনার দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের দাবি, কুড়ি ফেব্রুয়ারির গুলির ঘটনার (Lucknow Murder) পর থেকেই প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা শুরু হয়। একাধিক প্যাথলজি ল্যাব ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানের মালিক ছিলেন মানবেন্দ্র। তিনি ছেলেকে চিকিৎসা শিক্ষায় মন দিতে ও প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে চাপ দিচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু অক্ষত পারিবারিক ব্যবসার দায়িত্ব নিতে চাইছিলেন। এই নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই পারিবারিক অশান্তি চলছিল এবং ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগে তীব্র বচসাই খুনের কারণ হতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ (Lucknow Murder)।

তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগের দিন (Lucknow Murder) অভিযুক্ত অনলাইনে দুটি ছুরি অর্ডার করে। বাজার থেকে করাত ও একটি নীল ড্রামও কেনে। জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে, ছুরি ও করাত দিয়ে বাবার দেহের হাত-পা কেটে ফেলা হয় এবং দেহাংশ গাড়ির ডিকিতে রেখে সরানোর চেষ্টা করা হয়। সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা অভয় প্রতাপ মল জানান, অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে গিয়ে পুরো ঘটনার বিবরণ সংগ্রহ করা হয়েছে।

গুলির ফলে ঘরে প্রচুর রক্ত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিছানাপত্র ও বালিশে রক্তের দাগ লাগে। অভিযোগ, অভিযুক্ত সেগুলি বস্তায় ভরে খালের ধারে নিয়ে গিয়ে পুড়িয়ে দেয়। পরে আংশিক পোড়া কাপড় ও ছাই উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘরের দেওয়ালে রক্তের ছিটে ঢাকতে নতুন করে রং করা হয় বলেও তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সন্দেহ এড়াতে খুনের পর অক্ষত একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে বাবাকে বাড়ি ফিরতে অনুরোধ জানিয়ে আবেগঘন বার্তা পাঠায় এবং বন্ধুদের সঙ্গে খোঁজার নাটক করে। ডিজিটাল তথ্য এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ, দেহ বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও পরিবারের দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবে চলছিল যাতে কারও সন্দেহ না হয় (Lucknow Murder)।

অভিযুক্তের বোন কৃতি সিং-এর ভূমিকাও তদন্তের কেন্দ্রে এসেছে। পুলিশের দাবি, গুলির সময় তিনি ঘরে উপস্থিত ছিলেন কিন্তু প্রায় এক দিন বিষয়টি গোপন রাখেন। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁর বয়ান নথিভুক্ত করা হয়েছে। এটি ভয়ের কারণে নাকি ঘটনার পূর্বাভাস ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মোবাইল অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে, ঘটনার দিন অক্ষত কাকোরি এলাকায় গিয়ে ফোন চালু করে যাতে শেষ অবস্থান বাড়ির বাইরে দেখায়। ভোর সাড়ে চারটায় গুলির শব্দ বাড়ির অন্য সদস্যরা শুনতে পাননি বলেও জানা গিয়েছে, যা তদন্তে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

দগ্ধ সামগ্রী উদ্ধার, অপরাধস্থলের পুনর্গঠন ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এখন গভীর ফরেনসিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। তদন্তকারীদের মতে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের পাশাপাশি খুনের পর প্রমাণ নষ্ট করার পরিকল্পনার একাধিক স্তর ধীরে ধীরে সামনে আসছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts