দুর্গাপুজো মানেই উৎসব। এবার সেই উৎসবের (Durga Puja 2026) সঙ্গে সুর, গান, বাংলার লোকসংস্কৃতি এবং তারকাদের উপস্থিতি মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে বিশেষ সাংস্কৃতিক আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে পুজোর সময় পাঁচটি জায়গায় দু’দিন করে মোট দশ দিন চলবে বিশেষ সাংস্কৃতিক সফর ‘ট্রিবিউট টু মা’। নবান্ন সূত্রে খবর, এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন একাধিক নামী শিল্পী।
বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর, নন্দীগ্রাম, শিলিগুড়ি, দুর্গাপুর এবং বহরমপুরে এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হতে পারে (Durga Puja 2026)। কোন দিন কোথায় অনুষ্ঠান হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পঞ্চমীর দিনে দিঘায় সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দিঘার সেই বিশেষ অনুষ্ঠানে (Durga Puja 2026) মনালি ঠাকুর, মধুশ্রী, অন্তরা মিত্র, উজ্জয়িনী এবং জুন-সহ একাধিক পরিচিত শিল্পী মঞ্চে থাকতে পারেন। এছাড়াও কুমার শানু, শান, শ্রেয়া ঘোষাল এবং অভিজিৎ-সহ আরও কয়েক জন জনপ্রিয় শিল্পীর নামও এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে উঠে আসছে। তবে কারা কোন অনুষ্ঠানে থাকবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।
মহালয়ার দিন থেকেই বাংলায় উৎসবের আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রেড রোডে রোড শো এবং ইডেন উদ্যানে বড় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। সেই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিত থাকার কথাও রয়েছে। চোখধাঁধানো নানা আয়োজনের পাশাপাশি পুজোয় বিশেষ আকর্ষণ হতে চলেছে এই সাংস্কৃতিক সফর।
তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় (Durga Puja 2026)। গঙ্গার রিভার ফ্রন্ট এলাকায় আলোর বিশেষ আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যাসাগর সেতু, হাওড়া ব্রিজ এবং গঙ্গার দু’পাড়কে আলোর সাজে সাজিয়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিদ্যাসাগর সেতু থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত বিস্তীর্ণ নদীপাড়ে এই আয়োজন হতে পারে।
শুধু আলোকসজ্জাই নয়, থাকবে আন্তর্জাতিক মানের আতসবাজির প্রদর্শনী এবং ড্রোন শো। আকাশে দেখা যেতে পারে ‘আবার আসবে উমা’ লেখা বিশেষ ড্রোন প্রদর্শনী। পাশাপাশি গঙ্গার বুকেও থাকবে বিশেষ আয়োজন।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যে এই প্রথম গঙ্গার বুকে ভাসমান ট্যাবলো প্রদর্শনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাবুঘাট, গোয়ালিয়র ঘাট, প্রিন্সেপ ঘাট এবং নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় সেদিন দর্শকদের ভিড় হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাবুঘাটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিত থাকার কথাও জানা গিয়েছে।
বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় বিদ্যাসাগর সেতু থেকে হাওড়া ব্রিজ পর্যন্ত গঙ্গার উপর আতসবাজির প্রদর্শনীও করার পরিকল্পনা রয়েছে। সব মিলিয়ে পুজোর শেষ দিনেও উৎসবের আমেজ ধরে রাখতেই বড়সড় আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলার লোকসংস্কৃতি, দুর্গার বন্দনা, গান এবং আধুনিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মেলবন্ধনে এবারের পুজোয় রাজ্যজুড়ে এক অন্য ধরনের উৎসবের আবহ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোথায় কোন শিল্পী মঞ্চে উঠবেন এবং অনুষ্ঠানগুলির চূড়ান্ত সূচি কী হবে, সেই অপেক্ষাতেই এখন নজর থাকছে।






