আজ থেকে সংসদে শুরু হয়েছে বিশেষ অধিবেশন। এই অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছে কেন্দ্র (Delimitation Bill)। এর মধ্যে রয়েছে মহিলাদের জন্য তেত্রিশ শতাংশ আসন সংরক্ষণের বিল, লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল সংক্রান্ত সংশোধনী বিল। তবে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও বিতর্ক হচ্ছে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিলকে ঘিরে।
এই বিল আইনে পরিণত হলে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা পাঁচশো তেতাল্লিশ থেকে বেড়ে প্রায় আটশো পঞ্চাশ হতে পারে (Delimitation Bill)। কেন্দ্রের দাবি, এতে দেশের প্রতিনিধিত্ব আরও শক্তিশালী হবে। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলের মাধ্যমে উত্তর ও দক্ষিণ ভারতের মধ্যে বিভাজন তৈরি হতে পারে।
এর আগে দুই হাজার তেইশ সালে এই ধরনের একটি বিল পাশ হয়েছিল (Delimitation Bill)। তখন বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতের জনগণনার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করা হবে। কিন্তু এবার নতুন করে বিল এনে কেন্দ্র জানাচ্ছে, দুই হাজার এগারোর জনগণনার তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এর ফলে আসন সংখ্যা বাড়বে এবং মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করার পথও সহজ হবে বলে দাবি সরকারের।
বিলের খসড়ায় বলা হয়েছে, লোকসভায় সর্বোচ্চ আটশো পনেরো জন সদস্য থাকতে পারবেন, যারা রাজ্য থেকে সরাসরি নির্বাচিত হবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির জন্য সর্বোচ্চ পঁয়ত্রিশটি আসন থাকবে। সব মিলিয়ে মোট আসন সংখ্যা প্রায় আটশো পঞ্চাশ হতে পারে (Delimitation Bill)।
এই প্রস্তাব সামনে আসতেই বিরোধীরা তীব্র আপত্তি তুলেছে। তাদের দাবি, জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস হলে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে আসন সংখ্যা অনেক বেশি বাড়বে। ফলে সংসদে দক্ষিণ ভারতের প্রতিনিধিত্ব কমে যেতে পারে।
দক্ষিণ ভারতের একাধিক দল ইতিমধ্যেই এই বিলের বিরোধিতা করেছে। তাদের মতে, যারা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার পরিকল্পনা মেনে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে, তাদেরই উল্টোভাবে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে যেখানে জনসংখ্যা বেশি, সেই রাজ্যগুলি লাভবান হবে। এতে দেশের যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যদিও কেন্দ্র এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কেন্দ্রের দাবি, আসন পুনর্বিন্যাস হলে দেশের সব রাজ্যই উপকৃত হবে এবং কোনও রাজ্যের সঙ্গে অন্যায় করা হবে না। একই সঙ্গে বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে কেন্দ্র।
এই বিল নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। সংসদে আলোচনা এবং ভোটাভুটির পরই স্পষ্ট হবে, দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে।











