Shopping cart

TnewsTnews
  • Home
  • Important
  • গেট বন্ধ, দুই দিকে দুই স্লোগান! সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে কেন এত উত্তেজনা?
রাজ্য

গেট বন্ধ, দুই দিকে দুই স্লোগান! সত্যজিৎ রায় ফিল্ম ইনস্টিটিউটে কেন এত উত্তেজনা?

SRFTI Edit
Email :2

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (SRFTI) একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া অশান্তি সময় গড়ানোর সঙ্গে আরও বেড়েছে। পড়ুয়া এবং অনুষ্ঠান আয়োজকদের মধ্যে বচসার পর সংঘর্ষের অভিযোগ ওঠে। পরে ক্যাম্পাসের ভিতর ও বাইরে পাথর ছোড়ার অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনায় কয়েক জন পড়ুয়া আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে (SRFTI)।

রবিবার সকালে প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েতের পশ্চিমবঙ্গ শাখার একটি অনুষ্ঠান চলছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া সেখানে গিয়ে কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এরপরই দুই পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয় (SRFTI)।

পড়ুয়াদের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে কিছু বক্তার বক্তব্য নিয়ে তাঁদের আপত্তি ছিল। সেই আপত্তি জানাতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁদের উপর হামলা করা হয় বলে তাঁদের দাবি। অন্য দিকে, অনুষ্ঠান আয়োজকদের অভিযোগ, পড়ুয়ারাই কর্মসূচিতে বাধা দেন এবং তাঁদের পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে দেন (SRFTI)। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলেছে।

অশান্তির পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে যাওয়া আয়োজকদের বাস ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। পরে বাসটি ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর ক্যাম্পাসের গেট বন্ধ করে দেওয়া হয়, যাতে বাইরে থেকে আর কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারেন বলে জানানো হয় (SRFTI)।

সন্ধ্যার দিকে ক্যাম্পাসের ভিতর এবং বাইরে দুই পক্ষের পাল্টা স্লোগান চলতে থাকে। পড়ুয়াদের একাংশের তরফে ‘জয় ভীম’, ‘ইনকিলাব’ এবং ‘আজাদি’ স্লোগান দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, ক্যাম্পাসের বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীদের একাংশের মুখে ‘জয় শ্রী রাম’ এবং ‘ভারতমাতা’ স্লোগান শোনা যায় বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

এই সময় ক্যাম্পাসের গেট কার্যত দুই পক্ষের মধ্যে বিভাজনের রেখা হয়ে ওঠে। এক দিকে পড়ুয়ারা, অন্য দিকে বাইরে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে গেট টপকে ক্যাম্পাসের ভিতরে ঢুকতে হয় বলে প্রতিবেদনগুলিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যেই গেটের কাছে এক যুবককে ঘিরে মারধরের অভিযোগ ওঠে। হলুদ রঙের গেঞ্জি পরা ওই যুবক নিজেকে পড়ুয়া বলে দাবি করছিলেন। তিনি পড়ুয়াদের শক্তি নিয়ে কথা বলার পর কয়েক জন তাঁর উপর চড়াও হন বলে অভিযোগ। তাঁকে মারধর করা হয় এবং পোশাক টানাটানি করা হয় বলেও দাবি উঠেছে। ঘটনার পূর্ণ সত্যতা এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের বিষয়।

অন্য দিকে, বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীদের এক জন ‘আজাদি’ স্লোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এই পাল্টা স্লোগানকে কেন্দ্র করেও উত্তেজনা আরও বাড়ে বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই পক্ষকে আলাদা রাখার চেষ্টা করছে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছটা পেরিয়েও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাথর ছোড়ার ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে খবর। তবে ঠিক কত জন আহত হয়েছেন এবং সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা তদন্তের পর আরও স্পষ্ট হবে।

ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যও এক নয়। ফলে কে প্রথম হামলা চালিয়েছিল, পাথর ছোড়ার ঘটনা ঠিক কোথা থেকে শুরু হয়েছিল এবং অশান্তিতে কারা জড়িত ছিল—এই সব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের উপরই নির্ভর করছে। আপাতত সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট চত্বরে উত্তেজনা রয়েছে এবং পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে পুলিশ।

Related Tags:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related Posts