পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (POK) পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রাওয়ালকোট বাস টার্মিনালে পাক সেনার গুলিতে ছয় বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর পর বুধবার আরও বারো জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। আন্দোলনের তীব্রতা বাড়তেই নতুন করে প্রায় চার হাজার সেনা মোতায়েন করেছে পাকিস্তান প্রশাসন। একের পর এক মৃত্যুর ঘটনায় রাওয়ালকোট থেকে মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভ ঠেকাতে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের (POK) একাধিক শহর কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। অভিযোগ, সাংবাদিকদের অনেক এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, দমন-পীড়নের খবর বাইরে পৌঁছানো আটকাতেই এই কড়াকড়ি করা হয়েছে। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে নাগরিক অধিকার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে। পরিস্থিতি ক্রমেই অশান্ত হয়ে উঠছে।
এই ঘটনার পর পাকিস্তানের (POK) বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বিদেশমন্ত্রকের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত শোষণ, মৌলিক অধিকার হরণ এবং প্রশাসনিক নিপীড়নের ফলেই আজ সেখানে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। ভারতের দাবি, মানুষের দাবি শোনার বদলে পাকিস্তান বলপ্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে। নারী, শিশু-সহ সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগও তুলেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানকে জবাবদিহির মুখে দাঁড় করানোর দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে আমেরিকাতেও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মানুষের সমর্থনে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। হোয়াইট হাউসের সামনে বিক্ষোভে অংশ নেন বহু প্রবাসী (POK)। তাঁদের দাবি, পাক সেনাকে অসামরিক এলাকা থেকে সরাতে হবে এবং নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দ্রুত হস্তক্ষেপেরও আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।











