ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা ‘চিকেনস নেক’ বা শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে বড় উদ্যোগ নিচ্ছে কেন্দ্র। সেই লক্ষ্যেই আগামী ১৮ জুলাই শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা বৈঠকে যোগ দিতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah)। বৈঠকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ রোধ, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন এবং সীমান্তে বেড়া তৈরির কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যসচিব, সীমান্তবর্তী জেলার জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া তৈরির জন্য জমি না পাওয়া নিয়ে বিতর্ক ছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই জট অনেকটাই কেটেছে। রাজ্য সরকারের দাবি, সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করতে ইতিমধ্যেই সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে বিপুল পরিমাণ জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ১০ জুলাই পর্যন্ত মোট ১০২৫.৭৫ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। এই জমিতে প্রায় ১৭২.৬০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় বেড়া নির্মাণের কাজ এগোবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি জমি দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। এছাড়া মালদহ, কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর, দার্জিলিং এবং জলপাইগুড়িতেও জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। উত্তরকন্যার বৈঠকে এই প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হতে পারে (Amit Shah)।
এদিকে কেন্দ্র শিলিগুড়িকে কৌশলগতভাবে আরও শক্তিশালী করতে বিশেষ পরিকল্পনা করছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘চিকেনস নেক’ দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ হওয়ায় এর নিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে উন্নত পরিকাঠামো গড়ে তুলে এই অঞ্চলকে আরও সুরক্ষিত করার পরিকল্পনা রয়েছে (Amit Shah)।
গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের ছয় জেলায় প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৯৫ কিলোমিটার এলাকায় এখনও সম্পূর্ণ বেড়া নির্মাণ সম্ভব হয়নি। কোথাও নদী, কোথাও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কাজ আটকে রয়েছে। এই সব এলাকাতেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে কোচবিহারে। এরপর রয়েছে দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহ। পাশাপাশি নেপাল সীমান্তেও নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।












