নয়ডার সাম্প্রতিক হিংসার (Noida Violence) ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আদিত্য আনন্দকে ধরতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, গ্রেপ্তার এড়াতে নিজের চেহারা বদলে ফেলেছে সে এবং বর্তমানে পলাতক রয়েছে। অভিযোগ, বিক্ষোভরত শ্রমিকদের উস্কানি দেওয়ার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মনীষা চৌহান এবং রূপেশ রায়। নয়ডা পুলিশের কমিশনার লক্ষ্মী সিং জানিয়েছেন, এই হিংসা কোনও সাধারণ ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত এবং আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত চক্রান্ত (Noida Violence)।
পুলিশের দাবি, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভের সঙ্গে যুক্ত ছিল। যেখানে আন্দোলন, সেখানেই তাদের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। আদিত্য আনন্দ ২০২০ সাল থেকে এবং রূপেশ ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় সক্রিয় ছিল বলে জানা গিয়েছে (Noida Violence)।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, মার্চের শেষ থেকে এপ্রিলের শুরুতে নয়ডার মধ্যে চলাচল ও যোগাযোগ সুসংগঠিতভাবে করা হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রুপ তৈরি করে শ্রমিকদের একত্রিত করা হয়। প্রথমে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হলেও পরে উস্কানিমূলক ভাষণের মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলা হয় (Noida Violence)।
পুলিশের অভিযোগ, ১৩ এপ্রিল একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের সামনে শ্রমিকদের জড়ো করতেও এই অভিযুক্তদের ভূমিকা ছিল। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে। তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই সোশ্যাল মাধ্যমের দুটি অ্যাকাউন্ট বিদেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছিল এবং সেগুলি গত কয়েক মাস ধরে সক্রিয় ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মোট ৬২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আগুন লাগানো এবং পুলিশকে আক্রমণ করার অভিযোগও রয়েছে। বেশিরভাগ ধৃতই স্থানীয় শ্রমিক নন, বাইরের লোকজনও এই ঘটনায় জড়িত বলে সন্দেহ।
এই ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা আইনে পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও তদন্তে নেমেছে। পুরো ঘটনার পিছনে বড়সড় চক্রান্ত রয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।









