চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হতেই নজর গিয়েছে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে (Voter List)। এই কেন্দ্রের বিধায়ক স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকদিন ধরেই বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করে আসছে, এবার তারা এই আসন জিতবে। এই পরিস্থিতিতে বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার পর ভবানীপুরে কত নাম বাদ যাবে, তা নিয়ে জল্পনা চলছিল (Voter List)। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় দেখা গেল, মোট ৪৭ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পাশাপাশি আরও ১৪ হাজারের বেশি নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
প্রক্রিয়া শুরুর সময় কমিশন জানিয়েছিল, ভবানীপুরে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৬ হাজার ২৯৫। (Voter List) গত ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ৪৪ হাজার ৭৮৬ জনের নাম বাদ যায়। চূড়ান্ত তালিকায় আরও ২ হাজার ৩২৪ জনের নাম বাদ পড়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৯৪ জনের নাম বাদ হয়েছে। এছাড়া ১৪ হাজার ১৫৪ জনের নাম অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছে। নথি যাচাইয়ের পর তাঁদের মধ্যেও অনেকে বাদ পড়তে পারেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় প্রায় ২৮ হাজার ভোটে জিতেছিলেন (Voter List)। পরে উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫৮ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন। এবার নির্বাচনের আগে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সুকান্ত মজুমদার একাধিকবার এই কেন্দ্রে এসে জয়ের দাবি করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রী যেন এখান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
নাম বাদ নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও শুরু হয়েছে। সুকান্ত মজুমদারের দাবি, যাঁদের একাধিক জায়গায় নাম ছিল বা যাঁরা আর জীবিত নন, তাঁদের নামই বাদ গিয়েছে। তবে তিনি বলেন, এই তালিকা প্রকাশের পরও নাম তোলার সুযোগ রয়েছে। তাঁর মতে, এই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী ভবানীপুর থেকে লড়বেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
অন্যদিকে তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, কারও নাম অন্যায়ভাবে বাদ গেলে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী প্রক্রিয়া চলছে, তাই এটিকে চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
সব মিলিয়ে ভবানীপুরে এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া আগামী বিধানসভা নির্বাচনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে রাজনৈতিক মহলে।












