এসআইআর প্রক্রিয়ার জেরে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে লাগাতার নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করে চলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস (SIR)। তৃণমূলের দাবি, কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে বহু বুথ লেভেল অফিসার বা বিএলও আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন। জাতীয় ভোটার দিবসে সেই সব অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল (SIR)। একই সঙ্গে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠছে, তা নিয়েও কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তিনি।
২৫ জানুয়ারি জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে কলকাতার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল। দর্শকাসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরাও ছিলেন (SIR)। বিজেপির তাপস রায়, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী, সিপিএম নেতা কল্লোল মজুমদার এবং কংগ্রেস নেতা আশুতোষ চট্টোপাধ্যায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন রাজ্যের সিইও।
অনুষ্ঠানে সুব্রত বক্সী প্রশ্ন তোলেন, এক কোটি বা দুই কোটি ভোটারের নাম বাদ যাবে বলে যে কথা শোনা যাচ্ছে, তার অর্থ কী। সেই প্রশ্নের উত্তরে মনোজকুমার আগরওয়াল বলেন, বাইরে রাজনৈতিক লড়াই চলতেই পারে, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রত্যেক ভোটারই গুরুত্বপূর্ণ। কোনও বৈধ ভোটারের নাম কোনওভাবেই বাদ দেওয়া হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, উপর থেকে কাউকে নাম বাদ দেওয়ার কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, রাজ্যে প্রায় ৯০ হাজার বিএলও কাজ করছেন। যদি কোনও একজন বিএলও বলেন যে উপর থেকে এমন নির্দেশ এসেছে, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনও অফিসার যদি এমন দাবি করে থাকেন, নির্বাচন কমিশন কঠোর পদক্ষেপ করবে। কমিশনের পক্ষ থেকে কাউকে এই ধরনের নির্দেশ দেওয়া হয়নি বলেও তিনি জানান।
এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই বিএলও-দের একাংশ কাজের চাপ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক বিএলও-র মৃত্যুর খবর সামনে আসে। কয়েকটি ক্ষেত্রে আত্মহত্যার অভিযোগও ওঠে। তৃণমূলের দাবি, কাজের চাপই এই মৃত্যুর মূল কারণ। এই প্রসঙ্গে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, বিএলও-দের মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে প্রত্যেক জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসকের কাছ থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনও জেলাশাসকই এমন কোনও রিপোর্ট পাঠাননি, যেখানে বলা হয়েছে এসআইআর কাজের জন্য বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে।
মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, এই বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। তবে কমিশন স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে কোনও আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করতে পারে না। কমিশনের কোনও ত্রাণ তহবিল নেই। কোনও বিএলও-র মৃত্যু এসআইআর কাজের জন্য হয়েছে, তা জেলাশাসকের লিখিত রিপোর্টে প্রমাণিত হলে তবেই পরবর্তী পদক্ষেপ সম্ভব। এখনও পর্যন্ত এমন কোনও রিপোর্ট জমা পড়েনি বলে জানান তিনি।











