শুভেন্দু অধিকারীর গড় নন্দীগ্রামে সমবায় নির্বাচনে জয় পেল তৃণমূল কংগ্রেস। ফল ঘোষণার পর সবুজ আবির উড়তেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় এলাকা (Nandigram)। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী।
নন্দীগ্রাম (Nandigram) ২ ব্লকের রানিচক সমবায় সমিতিতে মোট ৪৫টি আসন রয়েছে। এই সমবায়ে মোট ভোটার ছিলেন ১ হাজার ৪০ জন। নির্বাচনে মোট ৮০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। বিজেপি প্রার্থী দেয় ৪০টি আসনে। বাকি ৫টি আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকায় আগেই জয় পায় তৃণমূল। শনিবার থেকেই এই নির্বাচন ঘিরে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছিল। বচসা, হাতাহাতি ও মারপিটে পরিস্থিতি ছিল থমথমে। সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৯ জন।
এই সমবায় সমিতি আগে থেকেই তৃণমূলের দখলে ছিল। সেই দখল বজায় রাখাই ছিল শাসকদলের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ (Nandigram)। শেষ পর্যন্ত ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, ৪৫টি আসনের মধ্যে ২৭টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল। বাকি ১৮টি আসনে জয়ী হয়েছে বিজেপি।
রবিবার বেলা নাগাদ ফল ঘোষণা হতেই শুরু হয় স্লোগান যুদ্ধ। একদিকে ‘জয় বাংলা’, অন্যদিকে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগানে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। দুই দলের কর্মী-সমর্থকরা একে অপরের দিকে তেড়ে যান। ফের সংঘর্ষ বাধে। যদিও আগে থেকেই পুলিশ মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি বড়সড় আকার নেয়নি।
এটাই প্রথম নয়। ঠিক এক সপ্তাহ আগেই শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে আমদাবাদ সমবায় সমিতির নির্বাচনেও পরাজয়ের মুখে পড়ে বিজেপি। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে পরপর দু’টি সমবায় নির্বাচনে জয় পেল তৃণমূল। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচির প্রভাবেই এই জয় সম্ভব হয়েছে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে নন্দীগ্রাম রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২১ সালের নির্বাচনে এই কেন্দ্রেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই নন্দীগ্রামেই ভোটের কয়েক মাস আগে এই জয় স্বাভাবিকভাবেই স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বকে বাড়তি অক্সিজেন দিয়েছে। তৃণমূল নেতাদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে শুভেন্দু গড়ে ‘সেবাশ্রয়’-এর প্রবেশই জয়ের রাস্তা অনেকটাই মসৃণ করেছে।
অন্যদিকে, তারকেশ্বরে পিয়াসাড়া স্টেশনপট্টি সমবায় নির্বাচনের সময়েও উত্তেজনা ছড়ায়। ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের আশপাশে ১৬৩ ধারা জারি থাকায় পুলিশ প্রশাসন দুই পক্ষের কর্মীদের সরিয়ে দেয়।












