মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। টানা তিন দিন ধরে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চলছিল। শেষ পর্যন্ত সেই লড়াইয়ে হার মানলেন খোকন চন্দ্র দাস (Bangladeshi Hindus)। শনিবার সকালে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর। বাংলাদেশের শরিয়তপুর জেলার ডামুড্যা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন খোকন (Bangladeshi Hindus)।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলো জানিয়েছে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয় তাঁর (Bangladeshi Hindus)। খোকনের এক আত্মীয় প্রান্ত দাস জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য শাহবাগ থানায় যাওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের পর দেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হবে।
হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার জানিয়েছেন, খোকনের (Bangladeshi Hindus) শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর অবস্থার কারণেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনায় মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের নাম বলে গিয়েছিলেন খোকন। পুলিশি সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনি দু’জনের নাম উল্লেখ করেছিলেন। একজন কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান, বয়স ২৭ বছর। অন্য জন রাব্বি মোল্লা, বয়স ২১ বছর। প্রাথমিক তদন্তে পলাশ সরদার নামে আরও এক জনের নাম উঠে এসেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করা যায়নি বলে খবর।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে। খোকন চন্দ্র দাস পেশায় ব্যবসায়ী ছিলেন। কেউরভাঙা বাজারে তাঁর একটি ওষুধের দোকান এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিংয়ের ব্যবসা ছিল। ঘটনার দিন রাত সাড়ে ন’টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে প্রতিদিনের মতো অটো রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
ডামুড্যা-শরিয়তপুর সড়কে কেউরভাঙা বাজারের কাছেই দুষ্কৃতীরা তাঁর পথ আটকায়। প্রথমে তাঁকে অটো থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। এরপর তিনি দুষ্কৃতীদের চিনে ফেলায় তাঁর মাথায় পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। প্রাণ বাঁচাতে খোকন পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। সেই চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
প্রথমে তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত তিন দিনের লড়াইয়ের পর মৃত্যু হল এই ব্যবসায়ীর।













