মাথার উপর দিয়ে একের পর এক যুদ্ধবিমান উড়ছে। চার দিক কাঁপিয়ে লাগাতার বিস্ফোরণের শব্দ (VeneZuela)। শনিবার, ৩ জানুয়ারি ভোররাত থেকেই ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে ভয়াবহ হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর। রাত প্রায় ২টো নাগাদ প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তারপর থেকেই একটানা বোমা ও গোলাবর্ষণে কেঁপে উঠছে গোটা শহর।
কারাকাসের (VeneZuela আকাশে একাধিক মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার উড়তে দেখা গিয়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। বিশেষ করে মার্কিন চিনুক, অ্যাপাচে এবং সিএইচ–৪৭ হেলিকপ্টারের উপস্থিতির কথা বলা হচ্ছে। সংবাদসংস্থা এএফপি সূত্রে খবর, ভেনেজুয়েলার গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি ফোর্ট টিউনা ও লা কার্লোটার উপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়েছে। রাজধানীর প্রতিরক্ষা মন্ত্রকেও বোমাবর্ষণ হয়েছে বলে অভিযোগ।
কারাকাসে (VeneZuela একের পর এক বিস্ফোরণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মিরান্ডা অঞ্চলের বিমানবন্দরেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ‘সারফেস টু এয়ার মিসাইল’ ব্যবহার করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত মার্কিন সেনা বা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেননি।
অন্য দিকে, ভেনেজুয়েলার (VeneZuela সেনা বিবৃতি জারি করে জানায়, তারা হামলার শিকার হয়েছে। সেনার দাবি, রাজধানী কারাকাসের পাশাপাশি লা গুয়াইরা বন্দরে ভয়াবহ বোমাবর্ষণ চালানো হয়েছে। ধ্বংস করা হয়েছে একাধিক সামরিক কমপ্লেক্স। হিগুএরতে বিমান ঘাঁটিতেও বিস্ফোরণ হয়েছে, যেখানে ভেনেজুয়েলার যুদ্ধবিমান রাখা থাকত বলে জানা যায়।
ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোর সরকারি বাসভবনের আশপাশে মার্কিন সামরিক গাড়ি ঢুকেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দেশ জুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। রাজধানী কারাকাসে বিদ্যুৎ পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। গোটা শহর অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার সেনার তরফে জানানো হয়েছে, মার্কিন আগ্রাসনে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরোর নির্দেশে পাল্টা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত সেনা। একই সঙ্গে ভেনেজুয়েলা সরকারের অভিযোগ, দেশের তেল ও খনিজ সম্পদ দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরাসরি আগ্রাসনের অভিযোগ তুলেছে কারাকাস।
উল্লেখ্য, এর আগেও ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে আমেরিকায় মাদক পাচার ও সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিলেন ট্রাম্প। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই অতীতে একাধিক মাদক বোঝাই জাহাজে হামলা চালিয়েছিল মার্কিন সেনা। তবে এ বার পরিস্থিতি যে অনেক বেশি ভয়াবহ, তা মানছেন আন্তর্জাতিক মহল।









