রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা সাত কোটি ছেষট্টি লক্ষ সাঁইত্রিশ হাজার পাঁচশো ঊনত্রিশ (Voter List)। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকতে পারে প্রায় সাত কোটি আট লক্ষ ভোটারের। অর্থাৎ প্রায় আটান্ন লক্ষ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েক মাস আগে প্রকাশিত খসড়া তালিকাতেও একই সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। ফলে প্রশ্ন উঠছে, চূড়ান্ত তালিকায় আদৌ কতটা পরিবর্তন হচ্ছে (Voter List)।
কমিশন সূত্রে খবর, চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারদের তিনটি ভাগে রাখা হবে (Voter List)। অনুমোদিত ভোটার, অমীমাংসিত ভোটার এবং বাদ পড়া ভোটার। অনুমোদিত ভোটারদের নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। আবার বাদ পড়া ভোটারদের ক্ষেত্রেও কারণ স্পষ্ট থাকলে বিতর্ক কম। কিন্তু জট তৈরি হয়েছে অমীমাংসিত ভোটারদের ঘিরে।
জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ষাট লক্ষ ছয় হাজার ভোটার এই অমীমাংসিত তালিকায় রয়েছেন। কমিশনের বক্তব্য, যাদের নথিতে যুক্তিগত অসঙ্গতি রয়েছে কিন্তু যাচাই সম্পূর্ণ হয়নি, অথবা যাচাইয়ের পরও পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে, তাঁদের এই বিভাগে রাখা হয়েছে (Voter List)। অর্থাৎ নিষ্পত্তি না হলেও তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় থাকবে, তবে অমীমাংসিত হিসাবে। এই সিদ্ধান্তেই ভোটাধিকার নিয়ে সংশয় বাড়ছে।
এই ইস্যুতে তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী তীব্র সমালোচনা করেছেন কমিশনের। তাঁর অভিযোগ, মানুষের হয়রানি বাড়ছে এবং বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে দল রাস্তায় আন্দোলনের পাশাপাশি আদালতের দ্বারস্থ হবে। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, একাধিক তালিকা প্রকাশ পাবে এবং চূড়ান্ত তালিকায় অনুপ্রবেশকারীদের সংখ্যা সামনে আসবে। তাঁর বক্তব্য, সব তালিকা আগে প্রকাশ করা উচিত।
সংশয় সবচেয়ে বেশি ভোটাধিকার প্রয়োগ নিয়ে। নির্বাচন সামনে, অথচ লক্ষ লক্ষ ভোটার কার্যত ঝুলন্ত অবস্থায়। তাঁরা ভোট দিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। আবার ভোট দেওয়ার পর যদি দেখা যায় তাঁদের নাম বাদ পড়ার যোগ্য, তবে দায় কার হবে তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যদি অমীমাংসিত তালিকার সব নাম বাদ যায়, তবে মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা এক কোটি আঠারো লক্ষে পৌঁছাতে পারে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বহু নাম বাদ গিয়েছে এবং তিনি উদ্যোগ না নিলে এক কোটি কুড়ি লক্ষ নাম বাদ পড়তে পারত। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে কমিশনের আশ্বাস, আপাতত অমীমাংসিত ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন এবং ভোটের আগে সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে। সেই তালিকা থেকেই স্পষ্ট হবে কারা বৈধ এবং কারা বাদ পড়বেন।













